
ষাট দশকের সূচনালগ্নে এক তরুণ সন্ধ্যায় হাফস্লিভ শার্ট, ট্রাউজার পরা এক নবীন চিকিৎসক আমাদের পাশের বাড়িতে ব্যস্ত হয়ে ঢুকলেন। আমি আমার মাকে সংবাদ দিলাম। ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী (১৯৪০–২০২৬) সমুদ্রগামী জাহাজে করে চিকিৎসক হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান গভর্ণমেন্টের নমিনেশন পেয়ে তার মা সুফিয়া বেগমকে সালাম করতে এসেছেন।
চট্টগ্রামের তথা বাংলাদেশের ফার্স্ট জেনারেশন কার্ডিওলোজিস্ট ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী ৫ জুন বাদ জুমা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। পরিবারসূত্রে জানা যায়, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় তিনি স্ট্রোক করেন। তার মাথায় অপারেশন করা হয়, তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ৫ জুন বাদ জুমা তিনি ইন্তেকাল করেন। মুসলমানদের মধ্যে জুমা বারে মৃত্যু কাঙ্ক্ষিত। কবি আল মাহমুদ যেমন লিখেছেন ‘কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রি শেষে শুভ শুক্রবারে/মৃত্যুর ফেরেশতা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাগিদ’।
ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বাংলাদেশের ফার্স্ট জেনারেশন কার্ডিওলোজিস্ট। আমাদের জানামতে গত শতাব্দী পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে মেডিসিন, ইন্টারনাল মেডিসিন, ইউরোলজিস্ট, নেফ্রোলজি, নিউরো মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রালাইজড, গাইনলকজিস্ট, নিউরোলজিস্ট, প্যাড্রিয়াটিক্স, অর্থোপেডিক্স, ফিজিক্যাল মেডিসিন, সাইক্রিয়েটিস্ট, ডেন্টাল অপথোমলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট এসব বিশেষজ্ঞ ছিল না। জাতীয় পর্যায়ে ডা. নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের সন্তান ছিলেন।
পিতা মাতা ও রহস্যময় বাড়ি: ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরীর বাড়িটা ছিলো আমাদের জন্য রহস্যময়। তাদের হাই সিলিং গুদাম ঘরে বারান্দায় টানানো থাকতো লর্ডক্লাইভ বা জমিদারদের মতো ব্ল্যাকএন্ডহোয়াইট ফ্রেমিং ছবি। প্রায় যাদুঘরের মতো এরকম বাড়ি আমি আর দেখিনি। ডাক্তার সাহেব যখন গ্রামে যেতেন তখন বরকল বরমা দূর–দূরান্ত থেকে রোগীরা আসতো তার উঠানে। তিনি বিনে পয়সায় তাদের চিকিৎসা দিতেন। চট্টগ্রাম শহরে জামালখানে (বর্তমানে এডপ্রেস বিল্ডিংয়ে), পরে সেনসিভ হাসপাতালে তিনি প্র্যাকটিস করতেন। রোগীদের অনেকেই আত্মীয় রক্তিয় ছিলো। তিনি মুসলিম হাইস্কুলে এ্যালামনাই, চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, চট্টগ্রাম ক্লাব, সিনিয়রস ক্লাব, সিনিয়র সিটিজেন, জীবন বীমা কর্পোরেশনের কনসালটেন্ট ছিলেন।
ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরীর পিতা আব্দুল মাবুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সুপারেনটেনডেন্ট ছিলেন। তাকে আমরা জ্যআব্বা ডাকতাম। তার কক্ষে আমি গিয়েছি। নিউ মোরিং এলাকায় তারা বসবাস করতেন। পরবর্তীতে তিনি গ্রামসরকার প্রধান হন। তিনি মাবুদ পেশকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি আমাদের ইয়ং জেনারেশনদের অত্যন্ত পছন্দ ও অনুপ্রেরণা দিতেন। যেমন আমি অনার্সে স্ট্যানড করলে তিনি অত্যন্ত প্রীত হন। আমি চাকসু নির্বাচন (১৯৮০) করলে তার লিফলেট ও ছবি দেখে অত্যন্ত আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি নিজ উদ্যোগে টিনের ঘরের হাট (রমজান আলী মুন্সির হাট) এলাকায় বলীখেলার আয়োজন করতেন। তার মধ্যে একজন ফিউডাল লর্ড ও আধুনিক মানসিকতার চরিত্র ছিলো। তার মাতা সুফিয়া বেগম ছিলেন বড় উঠানের বদরুল হক খান এম.এল.এ–র ছোট বোন। তিনি দীর্ঘদেহী শ্যামলী ছিলেন কিন্তু আমরা তাকে ডাকতাম লাল জ্যআম্মা। তার হাতের ঘি দেয়া ডাল, কোরবানীর কালো মাংস আমাদের খুব পছন্দ ছিলো।
হে মধুর প্রেম: তার কন্যা শায়লা মাহমুদ জানাচ্ছেন, ১৯৬২ সালে তার মা জেবুন্নাহার মাহমুদ (চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা অনার্সের ছাত্রী ও সাবেক মন্ত্রী মোরশেদ খানের চাচাতো বোন) মা বাবা সহ এক্সিডেন্ট করেন। তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে পাকিস্তানি সার্জন ডা. আকরাম হোসেন অপারেশন করেন। তার হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাহমুদুল হক চৌধুরীকে ডেকে নেন। এবং জেবুন্নাহার মাহমুদের আহত হাতটা ধরতে বলেন। সেই যে হাত ধরলেন ১৯৬৯ সালে ৮ই অক্টোবর তাদের শাদী মোবারক সম্পন্ন হয়।
৭.১০.২০১৬ তে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্রে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরীর কণ্ঠে জানতে পারি, ‘১৯৫৬ সালে তিনি মুসলিম হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ, ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট এবং ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় সকল বাঙালি জাতিয়তাবাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং পরে তাঁর পছন্দ মতো সিলেট মেডিকেলে পোস্টিং নেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন আওয়ামী লীগ করিনি, কিন্তু এন্টি মুসলিম লীগার ছিলাম। সিলেটে আমি কর্ণেল ওসমানী, কর্ণেল জিয়াউর রহমান, দেওয়ান ফরিদ গাজী, তাঁদের সাথে পরিচিত হই। ১৯৭১ সালে জানুয়ারিতে আমি লিবিয়ার উদ্দ্যেশে রওয়ানা হই। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লিবিয়া, লন্ডন, জার্মান সব জায়গায় ডেমোনেন্সেট্রেশন ও ফান্ডিংয়ের জন্য যোগাযোগ করি। লন্ডনে কর্মরত সাবেক রাষ্ট্রপতি আবু সাইদ চৌধুরীর একাউন্টে টাকা জমা হয়। সে–সময় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. নুরুল ইসলাম, ডা. আবু জাফর উল্লেখ্য ভূমিকা রাখেন।’ ভিডিও সাক্ষাৎকারে নতুন প্রজন্ম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ মাটি, এ দেশ আমার, দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
শোক বার্তায় ঢাকা থেকে কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘বিনা রিং ও বিনা অপারেশনে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ সাওল হার্ট সেন্টার (বিডি) লি.-এর চট্টগ্রাম শাখার সূচনাকালীন প্রথম সিনিয়র কনসালটেন্ট, বিশিষ্ট হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী।
সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অসংখ্য হৃদরোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। চিকিৎসা পেশার প্রতি তাঁর গভীর অঙ্গীকার, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রোগীদের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ তাঁকে সকলের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছিল।
প্রফেসর ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী ছিলেন একজন অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী ও মানবিক মানুষ। তাঁর সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ, অমায়িক আচরণ, প্রজ্ঞা ও সহমর্মিতা সহকর্মী, রোগী এবং শুভানুধ্যায়ীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে চিকিৎসা অঙ্গন, সাওল পরিবার এবং তাঁর অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী এক নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও মহৎ মানবিক ব্যক্তিত্বকে হারালো।’
‘একজন কৃতী সুশীল মেডিকেল শিক্ষকের প্রস্থান’ শিরোনামে ইউএসটিসির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ডা. প্রভাত বড়ুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশে ২য় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউ এস টি সি এর তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন রেজিস্ট্রার বা নির্বাহী প্রধান পদে অমূল্য কর্মজীবন সম্পাদন করেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, স্বাধীনতাপদক প্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ নুরুল ইসলাম স্যারের একজন নিষ্ঠাবান পেশাজীবী এবং সুযোগ্য সহকর্মী পদে তিনি ফরেনসিক মেডিসিন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান পদে প্রায় দেড় দশক অভিষিক্ত ছিলেন। আমার ১৯১৪ হতে ২০১৮ পর্যন্ত কর্তব্যকালীন সম্মানিত প্রফেসর মাহমুদুল হক চৌধুরীর কারিকুলাম ও কো–কারিকুলাম কার্যক্রমে প্রচণ্ড সহযোগিতা–সহমর্মিতা শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।
তাঁর দায়িত্ববোধ, রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজন ও ছাত্রদের প্রতি পিতৃতুল্য মানবিক মূল্যবোধ সতত শিক্ষণীয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপাচার্য ও আইএএইসএস–এ দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অপূর্ব শৃঙ্খলাবোধ, সদাহাস্যোজ্বল ও অকৃত্রিম সহযোগিতা, শিক্ষা প্রশাসনে ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি এবং প্রতিষ্ঠান প্রেম অতুলনীয়। তিনি শ্বেত, শুভ্র নির্মল পোশাক পরিহিত একজন সাদা মনের মানুষ, আপাদমস্তক বিনয়ী, নির্ভীক ও স্পষ্টবাদী, সুঠাম দেহের সুদীর্ঘ সুপুরুষ ছিলেন। এক কথায়, তিনি ছিলেন বিশাল বিদ্যাপীঠের মহতো বিটপী।
প্রফেসর মহামুদুল হক চৌধুরী, এনাটমি বিভাগীয় প্রধান রফিকুল ইসলাম এবং কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মোঃ ফয়েজ খান মহোদয়ত্রয় অপেক্ষাকৃত বয়োজ্যৈষ্ঠ ও প্রবীণ শিক্ষকদের সান্নিধ্য পুনঃ পুনঃ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। প্রফেসর মাহমুদুল হক চৌধুরীর জন্মতীর্থ বরমা, ঐতিহাসিক জনপদ। উদারতা, ত্যাগ ও দেশমাতৃকার টান ও মানে পেট্রো ডলারের পরিবেশ বর্জন করে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।’ তাঁর কয়েক সহস্র ছাত্র ছাত্রী (নেপাল, কাশ্মীর, ভূটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও অন্যান্য) দেশ বিদেশে চিকিৎসা পরিষেবায় সুনাম কুড়িয়ে নেন।
তাঁর উত্তরাধিকার: চাটগাঁ ডাইজেস্ট ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরীর স্ত্রী জেবুন্নাহার মাহমুদকে রত্নগর্ভা মা হিসাবে সম্মাননা জানিয়েছিল। তাঁদের ৬ মেয়ের মধ্যে প্রথম রিপা মাহমুদ গৃহিণী, তিনি ইকোনোমিক্সে, কানাডার অটোয়া অ্যালগনকুইন কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। রিপা দৈনিক আজাদীর লেজেন্ড সাংবাদিক শরীফ রাজার পুত্র মো. এরফান শরীফের স্ত্রী।
দ্বিতীয় ড. শিউলি মাহমুদ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের অধীনে সানি কলেজ অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ফরেস্ট্রি থেকে পাল্প ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। তৃতীয় শায়লা মাহমুদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ, সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের জেনারেল–ম্যানেজার পদে কর্মরত আছেন। চতুর্থ ফারহানা মাহমুদ মাস্টার্স ইন লাইব্রেরি সায়েন্স সম্পন্ন করে বর্তমানে চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত আছেন। পঞ্চম ফৌজিয়া মাহমুদ পেশায় সিনিয়র ব্যাংকার। ষষ্ঠ ফারিন মাহমুদ এমবিএ, সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী শিক্ষিক পদে কর্মরত আছেন।
ডা. বদ্দা বেঁচে থাকার সময় সবাইকে নসীহত করতেন তাঁর দাফন–কাফন যাতে সুশৃঙ্খলভাবে হয়। একসময় গ্রামে যে–কোনো মানুষের মৃত্যু ছিল একটা করুণ উৎসব। মাইকেল যেমন বলেছিলেন, ‘আই এ্যাম গোয়িং টু বি সেলিব্রেট দ্য ফিউনারেল অব মাই ফেভারিট ইন্দ্রজিৎ।’ সেভাবে গ্রামের যখন কারো ‘মউতের সখরাত’ আসতো তখন প্রতিবেশি পাড়া, নিজস্ব উপজেলা বাইর থেকে লোকজন হাজির হতো। এবং দাফন–কাফন কুলখানি, চল্লিশা, ইত্যাদি একটা ক্রন্দন সিক্ত উৎসবে রূপান্তরিত হতো।
কিছুদিন আগে আমার ছোট ভাই এমরান চৌধুরী মারা গেলেন। এখন মৃত্যু মানে ফ্রিজারে করে লাশ থাকা, তারপর শহরে ও গ্রামে দুটো জানাজা। মাহমুদুল হক চৌধুরীর লাশ কবরে নামার সময় আমি লক্ষ করলাম, গভীর কবর, কাঠের তক্তা, মাটি কলাপাতা চাপা তারপর সব শেষ। গালিব বলেছেন, ‘একটা সাদা কাফনের জন্য এত দীর্ঘ সফর।’ আমি বিভিন্ন লেখায় লিখেছি ‘এক জীবনে কত জীবনের কষ্টরে।’ গোরস্থানের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা জীবন কেটে গেল। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।’ তারাশঙ্করের ‘কবি’ উপন্যাসে কবি বলছেন, ‘হায় জীবন এতো ছোট কেনে? এ ভুবনে।’ এ যাতনাময় জীবন এত সহজ সরল ও সংক্ষিপ্তভাবে শেষ হয়ে যায়। পরম করুণাময়ের বিপুল করুণার উপকূলে আমরা বেঁচে থাকি কর্কটময় যাতনাময় অসহায় একা জীবন।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও নাট্যজন। সাবেক সচিব, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।
পরিচালক, থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম।












