‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ–পৃথিবীতে আজ/ যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা/ যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই/ পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।’ প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ বর্তমান সমাজের উচ্ছৃঙ্খল অমানবিক দিকগুলো যথার্থই উপলব্ধি করেছেন। তাই তিনি চমৎকারভাবে তাঁর কবিতায় সমাজের এসব অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরেছেন। বর্তমানে দেশে খুবই নাজুক অবস্থা বিরাজমান। প্রায় সবক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে মানবতা আজ এক গভীর সংকটের সম্মুখীন। সমাজের উচ্চশিক্ষিত ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সন্তানের মা বাবারা বিনা চিকিৎসা ও বিনা পরিচর্যায় মারা যাচ্ছেন। এমনকি সেসব সন্তান কর্তৃক বৃদ্ধ পিতা মাতা নিগৃহীত ও নির্যাতিত হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে। কোথায় গেলো মানবতা? কোথায় গেলো দায়িত্ববোধ? অন্যদিকে দেশজুড়ে চলছে সংঘাত, শিশুধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের অত্যাচার। শিশু বলাৎকার ও ধর্ষণের পর তাদেরকে জঘন্যভাবে হত্যা করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাং এর অরাজকতা দিনদিন বেড়ে চলছে। চারদিকে অশালীন ও অমানবিক চর্চা সহ সহিংসতা, অস্থিরতা কিছুতেই থামছে না। মানুষের মনে অনেক হিংস্রতা ও উগ্রতা বাড়ছে। শ্রদ্ধা, দয়া, সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, ন্যায়নীতি এসব গুণাবলি এখন লাটে উঠেছে। বর্তমানের এসব জঘন্য পরিস্থিতির কারণে প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আজ চরমভাবে উপেক্ষিত। সমাজ থেকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে স্বার্থপরতা বাড়ছে। বিপন্ন মানবতা আজ চরমে, সভ্যতার আড়ালে যেন হিংস্রতার থাবা। দেশের মানুষ আজ অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জাতীয় নিরাপত্তা নাই বললেই চলে। চাঁদাবাজি, খুন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ। আজ এ প্রেক্ষিতে, যাঁর যাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণ হওয়া সম্ভব। এজন্য পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। লেখক : কলেজ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক












