বাজেটের অর্থনৈতিক প্রভাব, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেমিনার

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি

| বৃহস্পতিবার , ২৩ জুলাই, ২০২৬ at ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজস্বনীতি, বিনিয়োগ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও বিশ্লেষণধর্মী চর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ‘বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ২০২৬২০২৭ : অর্থনৈতিক প্রভাব, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করেছে। গত ২০ জুলাই আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর এস এম নছরুল কদির।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগী ডিন প্রফেসর এম. মঈনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষজ্ঞ বক্তা ছিলেন চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর।

প্রফেসর এস এম নছরুল কদির বলেন, একটি বাজেট শুধু সরকারের আয়ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির রূপরেখা নির্ধারণ করে। তিনি বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় বাজেটে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরো শক্তিশালী করবে। আগামী বছর প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে প্রাকবাজেট সেমিনারের আয়োজন করবে এবং জাতীয় বাজেটের আগে সরকারকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ও ফিন্যান্স ডিসিপ্লিনের কোঅর্ডিনেটর রাজীব দত্ত। তিনি ২০২৬২০২৭ সালের বাজেটের সামগ্রিক কাঠামো, রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা, করনীতি, উন্নয়ন বাজেট, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিবেশ, শিক্ষা খাত এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বাজেটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারের মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, করের আওতা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ট্যাঙ ম্যানেজমেন্ট এবং কর পরিপালন বৃদ্ধি ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।

উপস্থাপনায় বক্তা বাজেটের ব্যয় কাঠামো বিশ্লেষণ করে বলেন, মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ সুদ পরিশোধ, বেতনভাতা ও অন্যান্য পুনরাবৃত্ত ব্যয়ে ব্যয় হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য আর্থিক সক্ষমতা কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে। তিনি কার্যকর সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর বলেন, একটি জাতীয় বাজেট কেবল সরকারের আয়ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা। তাই বাজেট বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংখ্যাগত দিক নয়, বরং এর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং উন্নয়নমূলক প্রভাবও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর অত্যধিক নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি করের আওতা সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর পরিপালনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিনের কোঅর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সুলতানা, মার্কেটিং ডিসিপ্লিনের কোঅর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী, অ্যাকাউন্টিং ডিসিপ্লিনের কোঅর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসান উদ্দিন, এইচআরএম ডিসিপ্লিনের কোঅর্ডিনেটর সহকারী অধ্যাপক রহিমা বেগম এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষকশিক্ষিকাবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবায়েজিদ থেকে ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধএ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী স্মরণে দোয়া মাহফিল