নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার আলোচিত চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বুধবার সকালে। গতকাল যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ করে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা রায়ের এ দিন ধার্য্য করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ–উল আলম চৌধুরী (মারুফ) দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমরা মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।
আশা করছি, ভিকটিমের পরিবার ন্যায় বিচার পাবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে আমরা আসামির বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ভিকটিম শিশু খেলছিল, সেখান থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
আদালতসূত্র জানায়, এ মামলার মোট সাক্ষী ছিল ২২ জন। এরমধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন– বাদী, ভিকটিম, ভিকটিমের মা, নানা, নানী, খালা, তদন্ত কর্মকর্তা, মেডিকেল সার্টিফিকেট রিপোর্ট প্রদানকারী ডাক্তার ও সংশ্লিষ্ট একটি কলোনীর কেয়ারটেকার। এর আগে গত ৮ জুন একই আদালত চার বছরের ওই শিশু ধর্ষণ মামলায় পুলিশের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন। পরদিন তথা গত ৯ জুন চার্জগঠনের মাধ্যমে আসামি মনির হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং ১০ জুন থেকে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতসূত্র আরো জানায়, গত রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। পরদিন সোমবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিকে পরীক্ষা করেন বিচারক। এসময় আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি কোন সাফাই সাক্ষ্য দেবেন না মর্মেও জানিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুনানি শেষ করে রায়ের জন্য দিন ধার্য্য করা হয়।
আদালতসূত্র জানায়, চার্জগঠন তথা বিচার শুরু হওয়ার দিন থেকে ৭ কার্যদিবসের দিনে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে। তারও আগে গত ৪ জুন ঘটনার ১৩ দিন পর ৭ কার্যদিবসের দিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসিতে থাকা নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) তানভীর আহমেদ। গত ২১ মে বিকালে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে। যখন তাকে থানায় নিয়ে যাবে পুলিশ, তখন এলাকার ক্ষুব্ধ লোকজন বাধা দেয়। লোকজন চাইছিল, পুলিশ ধর্ষককে যেন তাদের হাতে তোলে দেয়। তারাই তার বিচার নিশ্চিত করবে। এ নিয়ে পুলিশ ও এলাকার লোকজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়। ২ ঘণ্টা চেষ্টা করেও অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যার দিকে টিয়ার শেল ছোড়ে। ক্ষুব্ধ লোকজনও জড়ো হয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশের গাড়িতে দেওয়া হয় আগুন। দফায় দফায় সংঘর্ষে রাতভর বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। তবে সংঘর্ষের কোন এক সময় পুলিশ অভিযুক্তকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। তারও আগে ধর্ষণের শিকার শিশুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। শিশু ধর্ষরে এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশকে কাজে বাধা, হামলা ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তার পরবর্তী অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি দোষ শিকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মনির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। নগরীর বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে তিনি থাকতেন। ঘটনাস্থল চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় একটি ডেকোরেটরের দোকানে তিনি কাজ করতেন।











