বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ পার হতে ইরানের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

| মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

কয়েক দফা চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালি পার হতে না পারা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটিকে ওই সমুদ্রপথ নিরাপদে পার হওয়ার সুযোগ করে দিতে ইরান সরকারের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত রোববার তুরস্কে আন্তালিয়া কূটনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে বৈঠকে ওই অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের নিরাপদ পারাপারে ভূমিকা নিতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খলিলুর রহমান বলেন, ‘হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি পাওয়া ছয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে যখন অন্তর্ভুক্ত করেছিল ইরান, তখন আমরা ধন্যবাদ জানিয়েছি।’ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোববার রাতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও এ বিষয়ে ইরানের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন দুই নেতা।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্রের চলা যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ওই সমুদ্রপথ ধরে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলের অনুমতি মিললেও ‘বাংলার জয়যাত্রা’ কয়েকবার চেষ্টা করেও সেটি পার হতে পারেনি। সবশেষ বাংলাদেশ সময় শুক্রবার গভীর রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে রওনা হয়ে হরমুজ প্রণালির একেবারে কাছে গিয়েও সেটি পার হতে পারেনি ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ইরানি নৌবাহিনীর অনুমতি না মেলায় জাহাজটি আগের অবস্থান মিনা সাকার বন্দর এলাকায় ফিরে আসে।

এই অবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবিতে সোমবার সরকারকে আইনি নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালির রাহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল। ওই বৈঠকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশগামী একটি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, ইরানের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তালিয়া কূটনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে উভয়পক্ষ মতবিনিময় করেছে। সবপক্ষের সংযম এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উপর গুরুত্বের কথা তুলে ধরে চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অব্যাহত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ‘গঠনমূলক অবস্থানকে’ সাধুবাদ জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলকে পরস্পরের জন্য সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভোজ্যতেলের অবৈধ মজুদ প্রতিরোধ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতের নির্দেশ ডিসির
পরবর্তী নিবন্ধইরানের জাহাজ আটক, মার্কিন রণতরীতে তেহরানের হামলা