বন্যা পুনর্বাসনে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের ১০০ নতুন ঘর নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

বন্যা শুরুর প্রথম দিন থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর দুর্গম এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে নিরলসভাবে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন। চলমান এই মানবিক সহায়তার আওতায় সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৪ হাজার বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ৪০ টন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন করেছে।

​সরেজমিনে ত্রাণ দিতে গিয়ে বন্যার্ত মানুষের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও তাদের চোখের অশ্রু দেখে দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার (১৮ জুলাই) পেকুয়া উপজেলা মাঠে সকাল ১১টায় ১০০টি নতুন ঘর নির্মাণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

​গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই ফাউন্ডেশন। সরকারের পাশাপাশি তাদের এই মহতী উদ্যোগ বন্যার্তদের পুনর্বাসনে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাবলম্বী করে টেকসই সমাজ গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”

​অনুষ্ঠানে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার ২০টি আশ্রয়হীন পরিবারের মাঝে নতুন ঘর তৈরির যাবতীয় সরঞ্জামাদি হস্তান্তর করা হয়। পুনর্বাসনের জন্য ঘর তৈরির সামগ্রীর পাশাপাশি নতুন খাট, বেডিং, মশারি, বালিশ, বালতি, ডেক্সি, পাতিল, মগ ও মাদুরসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিত্যব্যবহার্য তৈজসপত্রও তুলে দেওয়া হয়।

​আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এছাড়াও স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
​এ সময় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, “ত্রাণ বিতরণ নয়, বন্যার্তদের স্থায়ী পুনর্বাসনই আমাদের লক্ষ্য। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা গৃহহীনদের জন্য আরও বেশি ঘর তৈরি করতে পারব। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে এই ঘরের সংখ্যা ১০০ থেকে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।

​ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো নতুন ঘর তৈরির সরঞ্জাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপকারভোগীদের একজন কাঞ্চন মালা বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর ভাঙা ঘর মেরামতের জন্য অনেকের কাছে টিন খুঁজেছি, অবশেষে আজ আমি নতুন ঘর তৈরির সব সরঞ্জাম পেয়ে অনেক খুশি।”

​উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ফেনীর ভয়াবহ বন্যায়ও এই ফাউন্ডেশন ১০০টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সফলভাবে প্রায় ১৫০টি ঘর তৈরি সম্পন্ন করেছিল।

​দেশের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের নির্যাতিত গাজাবাসীর জন্যও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে সংস্থাটি। এছাড়াও তুরস্ক, মরক্কো, নেপাল ও আফগানিস্তানের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝেও দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধছাত্রজনতার ওপর হামলা : যুবলীগ নেতা শফিক গ্রেপ্তার