বন্দরে ৪৯৪ কোটি টাকার সিগারেটের তামাক জব্দ

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে পাকিস্তান থেকে আমদানি

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত কাঁচা তামাকের একটি বড় চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম বন্দরে জব্দ হওয়া এই ১০টি কন্টেনার রয়েছে ১৫০ মেট্রিক টন কাঁচা তামাক। এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব, যার সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বুধবার চালানটি আটকের পর গতকাল বিকালে নগরীর আগ্রাবাদে সিজিও ভবন–২ এ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, বন্ড লাইসেন্স সুবিধার অপব্যবহারের কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। কিছু আমদানিকৃত পণ্য অপসারণ করা হয়েছে। কিছু পণ্য হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে, যার পক্ষে কোনো বৈধ দলিল তাদের কাছে নেই। বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ কন্টেনার ১৫০ টন কাঁচা তামাক চালান আটকের বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, এই চালানটি ১৭ অক্টোবর পাকিস্তান থেকে ছেড়ে আসে এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় ১৯ অক্টোবর। বন্দরে আসার পর যখন এটির বিল অব এন্ট্রি সাবমিট হয়, তবে কাস্টমস প্রসেস এখনো শুরু হয়নি। এমন অবস্থায় খবর আসার পর আমরা হস্তক্ষেপ করি। চালানটিতে ১৫০ টন তামাক পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই কাঁচামাল ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন সম্ভব, যার সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

এর আগে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে গতকাল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পণ্য চালানটি এনেছে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড। তাদের আমদানিকৃত এই চালানে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতি পেয়েছে অধিদপ্তর। একই এইচএস কোডের পণ্য সাধারণত প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলারে অ্যাসেসমেন্ট করা হলেও, আলোচ্য চালানে প্রতি কেজির ঘোষিত মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার। পূর্ববর্তী বাজারমূল্য বিবেচনায় এই চালানে সম্ভাব্য আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার মতো হতে পারে।

কাস্টমস গোয়েন্দার মতে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে আনা এসব তামাকের প্রকৃত ব্যবহার এবং তা দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের হিসাব যদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে বড় ধরনের শুল্ক–কর ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই চালানের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অন্যান্য অসঙ্গতি খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবায়েজিদে গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মীর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধএবার নতুন বছরের আগেই নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা