চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ ঘোষণা দিয়ে জাপান থেকে আনা বিলাসবহুল চারটি গাড়ি ও যন্ত্রাংশের দুটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আটক গাড়ির অংশের মধ্যে রয়েছে লেঙাস এলএঙ–৬০০, লেক্সাস এসসি–৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫–এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া হোন্ডা বি১৮সি টাইপ–আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ–কাটসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ ও টায়ার পাওয়া গেছে। গাড়িগুলো ভাগ করে কেটে আনা হয়েছে। এসব গাড়ির শুল্কমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।
গতকাল বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালে (পিসিটি) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন। তিনি জানান, ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস জাপান থেকে এই গাড়িগুলো আমদানি করে। ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। কিন্তু আমদানিকারকের প্রতিনিধি বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেননি। পরে নিলামের মাধ্যমে পণ্য খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল–এমন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি পরীক্ষা করা হয়। এর আগে মোংলা বন্দর থেকে একই আমদানিকারকের মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিলাসবহুল গাড়ির চালান আটক করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জাপান থেকে একটি ৪০ ফুট কন্টেনারে ১৬৭ প্যাকেজে ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আমদানি করা হয়। পণ্যগুলো ‘পুরনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ও গিয়ারবঙসহ ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কন্টেনারে তিন স্তরে পণ্য সাজানো ছিল। সামনের দিকে রাখা হয়েছিল গাড়ির যন্ত্রাংশ। সেগুলোর আড়ালে পাওয়া যায় লেঙাস ও বিএমডব্লিউর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার চালানটির বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়। এ সময় লেঙাস এলএঙ ৬০০, লেঙাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫–এর মডেলের গাড়ির যন্ত্রাংশের পাশাপাশি হোন্ডা বি১৮সি টাইপ–আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ বা হাফ–কাটসহ অন্য যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সম্পূর্ণ গাড়ি আমদানির পরিবর্তে এসব গাড়িকে ফ্রন্ট কাট, রিয়ার বা টেইল কাটসহ কয়েকটি বড় অংশে ভাগ করে আংশিক সংযোজিত অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরে সেগুলো খালাস করে দেশে পুনরায় সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে ব্যবহার বা বিক্রির উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এ ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে শুল্ক–কর অনেক বেশি। গাড়ির ধরনভেদে শুল্কযোগ্যতার হার ১০৩ থেকে ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, এই উচ্চহারের শুল্ক–কর এড়াতেই ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন বলেন, চালানটির মূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা হতে পারে। তবে বিস্তারিত যাচাই–বাছাই শেষে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে। চালানটির আমদানি মূল্য, পেমেন্ট, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক দলিল ও লেনদেনের প্রকৃতি যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি বা অন্য কোনো অনিয়মের মাধ্যমে এসব বিলাসবহুল গাড়ি ও যন্ত্রাংশ খালাসের চেষ্টা হয়েছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২৭ আগস্ট মোংলা বন্দর থেকে একই আমদানিকারকের মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিলাসবহুল গাড়ির চালান আটক করা হয়েছিল।











