প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে ফ্যাটি লিভার নিরাময় সম্ভব

চমেক হাসপাতালে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে অভিমত

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১২ জুন, ২০২৬ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

গ্লোবাল ফ্যাটি লিভার দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগ ও লিভার কেয়ার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার সকালে চমেক হাসপাতালের শাহ আলম বীর উত্তম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল ফয়েজ। উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য খাতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি সমপ্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রদত্ত ‘ডক্টর লি জংউইক মেমোরিয়াল প্রাইজ ফর পাবলিক হেলথে’ ভূষিত হয়েছেন। সেমিনারে অন্যান্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, চমেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুর রব এবং মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এই নীরব ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত, যার মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং ফাস্টফুড ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের অভ্যাস।

সচেতনতার অভাবে অনেকেই প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি শনাক্ত করতে পারেন না, যা পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে কেবল জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও সুষম খাদ্য অভ্যাসের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময় করা সম্ভব। তাই এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারেক শামসের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ বি এম আদনান এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। সেমিনার শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাহেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক ও তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সেমিনারের পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুরস্কার জয়ী প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল ফয়েজকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সেমিনার পরবর্তী সময়ে চমেক খেলার মাঠে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর চমেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের অংশগ্রহণে তিন ক্যাটাগরিতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ‘ওয়াকাথন’ অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার বাজেট
পরবর্তী নিবন্ধসামাজিক সৃষ্ট বৈষম্য ও অনাচারেই নারীর ন্যায্যতা পিছিয়ে রয়েছে