প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্থান, ৩০ বছর পর সেই প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেই পদত্যাগ

| রবিবার , ২৬ জুলাই, ২০২৬ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

২০২১ সালে শিক্ষামন্ত্রীর পদে আসা ধর্মেন্দ্র প্রধানের নিজের রাজনৈতিক জীবনের যাত্রাও শুরু হয়েছিল আশির দশকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯৪ সালে ধর্মেন্দ্র প্রধান এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। যে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন সেই একই আন্দোলনের হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান হয়েছিল তার। ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ওড়িশায় তখন ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস।

মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকীবল্লভ পট্টনায়ক। তার সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ভুবনেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি প্রায় ১,৫০০ ছাত্রছাত্রী ধর্নায় বসেন। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওই প্রতিবাদের পরই রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তিনি। রাজ্য সচিবালয়ের সামনে টানা আন্দোলনের ফলে প্রবল চাপে পড়ে যায় তৎকালীন কংগ্রেস সরকারও। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার সভাপতি ছিলেন।

পরে তিনি বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং এই দায়িত্বে থাকাকালে রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে উত্তর প্রদেশ, বিহার ও কর্ণাটকসহ কয়েকটি রাজ্যে দলের নির্বাচনী জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমনকি ওড়িশায় বিজেপির সংগঠন বিস্তারের কৃতিত্বও প্রধানকে দেওয়া হয়।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের নির্বাচনী জীবন শুরু হয় ২০০০ সালে, যখন তিনি বিজেডিবিজেপি জোটের প্রার্থী হিসেবে পল্লাহারা বিধানসভা আসন থেকে বিজয়ী হন। চার বছর পরে, ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি দেওগড় লোকসভা আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দেওগড় এখন আর লোকসভা আসন নয়; এটি সম্বলপুর লোকসভা আসনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যে আসন থেকে তিনি ২০২৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এরপর তিনি দীর্ঘ সময় কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

দলের ভেতরে তার গুরুত্বের কারণে তিনি দুই দফা অন্য রাজ্য থেকে রাজ্যসভার সদস্য হন২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিহার থেকে এবং পরে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশ থেকে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে এবং প্রধানকে পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রী করা হলে, তিনি তখন রাজ্যসভায় বিহারের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। ঠিক দুই দশক পরে, ২০২৪ সালে তিনি আবার ওডিশা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সম্বলপুর থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপশ্চিম তীরে গুলিতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত
পরবর্তী নিবন্ধহরমুজ প্রণালির অদূরে মার্কিন হামলায় বিকল তেলের ট্যাংকার