প্রথম ধাপে এক ভাগও নয়, দ্বিতীয় ধাপে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ

কক্সবাজারে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ

টেকনাফ প্রতিনিধি  | শনিবার , ১৬ মার্চ, ২০২৪ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারে সরকারিভাবে ধানচাল সংগ্রহে হোঁচট খেতে হয়েছে। সরকারিভাবে আমন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। প্রথম ধাপে ২৩ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহের সময়সীমা দিয়েছিল সরকার। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ১ শতাংশ ধানও সংগ্রহ করা যায়নি। ফলে দ্বিতীয় ধাপে ১০ দিন বাড়িয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। বর্ধিত সময়ে মোট ধানচাল সংগ্রহ করা হয় ২ হাজার ৮৯৪ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন।

জানা যায়, গত ৬ মার্চ পর্যন্ত চাল (আতপ) সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৮২৭ দশমিক ৪৫০ মেট্রিক টন। এ ধাপে আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৯ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন এবং সিদ্ধ চাল কেনার কথা ছিল ১৮৬৪ মেট্রিক টন। যদিও জেলায় একটি (সদরে) ছাড়া সিদ্ধ চালের আর কোনো মিল নেই। এজন্য লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়নি।

জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছেন, জেলার চারটি উপজেলার ২৩ জন চুক্তিবদ্ধ মিল মালিক থেকে ২ হাজার ৮২৭ দশমিক ৪৫০ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তারমধ্যে চকরিয়ার ৪টি মিল থেকে ৫১১ দশমিক ৪৫০ টন, যেখানে সংগ্রহের কথা ছিল ২ হাজার ৬৬৯ টন। রামুর ১০টি মিল থেকে ১১৪৮ টন, যেখানে সংগ্রহের কথা ছিল ৩ হাজার ৬ টন। উখিয়ার ৭টি মিল থেকে ৮৮৯ টন যেখানে সংগ্রহের কথা ছিল ১ হাজার ৫৯৪ টন এবং টেকনাফের ২টি মিল থেকে ২৭৯ মেট্রিক টন যেখানে থেকে সংগ্রহের কথা ছিল ৬৯০ টন। কুতুবদিয়ায় চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়নি। তবে ১৩১ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

চলতি আমন মৌসুমে ধান কেজি প্রতি ৩০ টাকা, আমন (সিদ্ধ) ৪৪ টাকা ও আতপ ৪৩ টাকা করে কেনার ঘোষণা দেয়া হয়।

জানা যায়, সদরে একটি সিদ্ধ চালের মিল ও ৮ উপজেলায় ৭৫টি বৈধ মিল রয়েছে। প্রতি বছর সরকারের দেওয়া দাম নিয়ে চুক্তি ভিত্তিতে সরকার চাল ও ধান কিনে থাকে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও চাল সংগ্রহ হয়েছে ২০ শতাংশেরও কম। আর ধানের কৌটা একেবারে শূন্য। ফলে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘাটতি।

কৃষকেরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি না করার কারণ হিসেবে দেখা গেছে, আমন মৌসুমের শুরু থেকেই খোলা বাজারে প্রতি মণ শুকনো ধান বিক্রি হচ্ছে ১১২০ থেকে ১১৫০ টাকা করে। আর সরাসরি মাঠে মধ্যেই ব্যাপারীদের কাছে কৃষকেরা কাঁচা ধান বিক্রি করতে পারছেন মণ প্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০ বা ৫০ টাকা করে। যদিও পুরোপুরি শুকনো প্রতিমণ ধানের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১২০০ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, কৃষকদের একটি করে কৃষি কার্ড আছে। ওই কার্ডে কৃষকের নাম, পরিচয় এবং তার চাষ করা জমির পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে। জেলায় কার্ডধারী কৃষকের ব্যাংকে ১০ টাকার হিসাব রয়েছে। ধান কেনার পর তার ব্যাংক হিসাবে টাকা দেওয়া হয়। কৃষক সেখান থেকে টাকা তোলেন। কৃষকেরা বলেন, গুদামে ধান বিক্রি করা বেশ ঝামেলার। তাছাড়া মোটা এবং চিকন ধানের বাজারদর সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি ছিল। গুদামে ধান পৌঁছে দিতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে, পরিশ্রমও হয় বেশি। এ জন্য তারা গুদামে ধান বিক্রি করতে চান না।

যদিও মিল মালিকেরা বলছেন, সরকার ধান ও চাল সংগ্রহের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে তা বাজারে দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে লোকসানের ভয়ে সরকারের গুদামে চাল দিতে চান না তারা। যারা দিয়েছেন তারা লাইসেন্স বাতিলের ভয়ে দিয়েছেন।

খাদ্য বিভাগ জানিয়েছেন, খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও ধানচাল সরবরাহ করেনি চালকলগুলো। চালকল মালিকেরা কারসাজির মাধ্যমে ধানচালের দাম বাড়াতে সরকারের গুদামে চাল দেয়নি। কারসাজির সঙ্গে যুক্ত চালকলগুলোর জামানত বাজেয়াপ্তসহ কালোতালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ফজল করিম আজাদীকে বলেন, চালের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় লোকসানের ভয়ে মিলাররা সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুল হক দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমন সংগ্রহ অভিযানে সরকারিভাবে ধানের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, স্থানীয় বাজারে তার চেয়ে বেশি দামে ধান বেচাকেনা হয়েছে। এছাড়া জমি থেকে ধান মাড়াই মজুরি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ধান দেয়নি। তারা কোনো খরচ ছাড়া বাড়ির পাশেই বা বাজারে প্রায় একই দামে ধান বিক্রি করেছে। তাই ধান ও চাল সংগ্রহে ১০ দিন বাড়িয়ে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। বর্ধিত সময়ে মোট ধানচাল সংগ্রহ করা হয়েছে ২ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাঁদাবাজি হঠাৎ করে বন্ধ করা যায় না, নিয়ন্ত্রণ করা যায় : কাদের
পরবর্তী নিবন্ধকারিতাসের টেকনিক্যাল ট্রেনিং কোর্সের সনদপত্র বিতরণ