বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় হাজারী লেনের প্রগতি ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়া, রুপন কান্তি ধর, নাবিলা তানজিনা, রাশিদুল সামির, গোলাম সরোয়ার, রিপন বড়ুয়া, মাহবুবা জাহান রুমি, বিপ্লব দাশ, সাবেক ছাত্রনেতা টিকলু কুমার দে প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ আজ বেকার। বেকার যুবকদের জন্য বেকার ভাতা চালু, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারি–বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম চাপে রয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, গ্যাসের সংকটে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানা ও ব্যবসা–বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
জাতীয় সম্পদ রক্ষার বিষয়ে বক্তারা বলেন, দেশের তেল, গ্যাস, কয়লা, সমুদ্রসম্পদসহ কোনো জাতীয় সম্পদ বিদেশি বা বেসরকারি স্বার্থে তুলে দেওয়া যাবে না। জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা কোনোভাবেই বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর দেশের জনগণের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এ সময় বক্তারা বেকার ভাতা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট সমাধান, বিদ্যুতের দাম কমানো, জাতীয় সম্পদ ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার দাবিতে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা দেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












