পাহাড় ধসে মেয়র গলি ও জঙ্গল সলিমপুরে দুই শিশুর মৃত্যু

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই, ২০২৬ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

পাহাড় ধসে নগরের মেয়র গলি ও সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে দুই শিশু মারা গেছে। মেয়র গলিতে নিহত শিশুর নাম সামিয়া ইসলাম (১২)। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন মঙ্গলবার রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি ব্লকেও পাহাড় ধসে প্রাণ হারায় শফিকুর রহমান নামে এক যুবক।

জানা গেছে, মেয়র গলিতে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়। পাহাড়টির পাদদেশে গড়ে উঠা বাবু কলোনিতে রয়েছে ৬টি ঘর। টিনের ছাউনির ঘরগুলোর একটিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতো সামিয়া। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। সর্বশেষ গতকাল কলোনির ৩ ও ৪ নম্বর ঘরে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এর মধ্যে ৩ নম্বর ঘরে ছিলো সামিয়া। মাটি চাপায় মারা যায় সে।

তিন বোনের সবার ছোট ছিল সামিয়া। সামিয়ার বাবা মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ ফারুক। পেশায় গৃহকর্মী মা শিরিন বেগম। দুর্ঘটনার সময় বাবামা; দুইজনের কেউই বাসায় ছিলেন না। পাহাড় ধসের খবর পেয়ে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। দুর্ঘটনার পর প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে সামিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও বিফল হন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাটি সরিয়ে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট বোনকে হারিয়ে আহাজারি করছেন সামিয়ার বড় বোন রিয়া আক্তার। তিনি জানান, সকালে ছোট বোনকে নিয়ে একসঙ্গে বসে ভাত খেয়েছেন।

পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে ঘরের উপর পড়ে। এতে শিশুটি (সামিয়া) আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসে মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামের ১০ মাস বয়সের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম ও সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুর ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গতকাল বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূলের খেজুরতলা বাগানবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম তানভীর ওই এলাকার মো. মহিন উদ্দিনের ছেলে। তবে ওই এলাকায় আরো অনেকেই ঝুঁকিতে বসবাস করছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি অনেকটা নরম হয়ে গেছে। তারই প্রেক্ষিতে এদিন সকালে পাহাড়ের মাটির একটি অংশ হঠাৎ করে বসতঘরে ধসে পড়ে। এ সময় পরিবারের সাথে ঘরে থাকা ১০ মাস বয়সের তানভীর মাটি চাপা পড়ে মারাত্মক আহত হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিশুটির পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা বর্ষার শুরু থেকেই যে সকল পরিবার পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছে, তাদের সরে যেতে সতর্ক করেছি। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার জন্য মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য জঙ্গল সলিমপুরের ১১টি সমাজের সর্দারদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আমরাও চাই যারা অতি ঝুঁকিতে বসবাস করছে তারা সবাই পাহাড় থেকে নিরাপদে নিচে নেমে আসুক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমাধান চান ৩ সংসদ সদস্য
পরবর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৭ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ নিহত ৮