সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শুরু থেকেই মাঠে নামলেন লামিন ইয়ামাল এবং জাল খুঁজে নিতেও দেরি করলেন না তিনি। খানিক পর আরেক ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল করলেন জোড়া গোল। প্রথম ম্যাচের হতশ্রী স্পেন এবার আক্রমণে ঝড় তুলে উড়িয়ে দিল সৌদি আরবকে। আটলান্টায় গতকাল রোববার ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচটি অনায়াসে ৪–০ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২২ শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। সৌদি আরবের তিন শটের একটি ছিল লক্ষ্যে। দুই ম্যাচে একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত টেবিলের শীর্ষে স্পেন। ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে সবার নিচে সৌদি আরব। উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের পয়েন্টও সমান ১ করে। এই দুই দল অবশ্য ম্যাচ খেলেছে একটি করে। চোট থেকে সেরে উঠে বিশ্বকাপ অভিষেকে বদলি নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি ইয়ামাল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তার দলও সেদিন পায়নি প্রত্যাশিত জয়। সাদামাটা পারফরম্যান্সে সমালোচনাও শুনতে হয়। জিততেই হবে– এমন কঠিন সমীকরণে নেমে, প্রথম মিনিট থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে স্পেন। একের পর এক আক্রমণ শাণিয়ে, দ্রুত সাফল্যও পেয়ে যায় তারা। দশম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দূরের পোস্টে দারুণ এক পাস বাড়ান মিকেল ওইয়ারসাবাল এবং গোলমুখে স্লাইড করে বল জালে পাঠান ইয়ামাল। বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন ইয়ামাল (১৮ বছর ৩৪৩ দিন)। রেকর্ডটি গাভির, গত আসরে ১৮ বছর ১১০ বয়সে গোল করেছিলেন এই মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে ২৭ ম্যাচ খেলে এই নিয়ে সাত গোল করলেন ইয়ামাল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট ১২টি।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে ১৮ বছর বা এর কম বয়সী দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে কোনো ম্যাচের প্রথম গোল করলেন ইয়ামাল। প্রথম জন পেলে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার–ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করার দিনে পেলের বয়স ছিল ১৭ বছর ২৩৯ দিন।
তিন মিনিটের ব্যবধানে আরও দুবার জালে বল পাঠিয়ে, প্রথম কুলিং ব্রেকের আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন এবং দুটি গোলই করেন ওইয়ারসাবাল। গত বছর বাছাইপর্ব থেকে দারুণ ছন্দে থাকা এই ফরোয়ার্ড ২১তম মিনিটে বিশ্বকাপে নিজের গোলের খাতা খোলেন। কর্নারে উড়ে আসা বল সৌদি আরব কয়েক দফায় ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, ছয় গজ বক্সে বল পেয়ে আলতো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল। তার দ্বিতীয় গোলটি দারুণ এক গোছানো আক্রমণের ফসল। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রস বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছে পেয়ে ছোট করে কাটব্যাক করেন কুকুরেইয়া, আর সেখান থেকে দানি ওলমোর হেড দূরের পোস্টে পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠান ওইয়ারসাবাল। ৩৬তম মিনিটে হ্যাটট্রিকও হতে পারতো ক্যারিয়ারের শুরু থেকে রেয়াল সোসিয়েদাদের খেলা এই তারকার। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তার পায়ে বল তুলে দেন সৌদি গোলরক্ষক; তবে সে যাত্রায় ভাগ্য সহায় হয় তাদের। ওইয়ারসাবালের শট ক্রসবারে বাধা পায়। জাতীয় দলের হয়ে ২৭ গোল হলো তার, ৫৫ ম্যাচে।
ম্যাচের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যাওয়ায়, বিরতির পর আর ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালকে নামাননি কোচ। তাদের জায়গায় আসেন ইয়েরেমি পিনো ও ফেররান তরেস। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে কিছুটা দুর্ভাগ্যবশত চতুর্থ গোল হজম করে সৌদি আরব। কুকুরেইয়ার জোরাল শট গোলরক্ষকের পায়ে বাধা পেলেও, ফিরতি বল সামনেই দাঁড়ানো ডিফেন্ডার হাসান আল–তামবাক্তির পায়ে লেগে জালে জড়ায়। এরপর, ধীরে ধীরে খেলার গতি কমে আসে। তাতে ব্যবধান আর না বাড়লেও, মাঠে স্প্যানিশদের নিয়ন্ত্রণ কখনও হাতছাড়া হয়নি। তাদের একদমই ভাবাতে পারেনি এশিয়ার দলটি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অবশ্য আবার জালে বল পাঠান তরেস; তবে তিনি নিজেই অফসাইডে থাকায় ব্যবধান বাড়েনি।
পরের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার সকালে উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে স্পেন। একই সময় মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দ ও সৌদি আরব।











