ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত ‘বিনিয়োগ পরিকল্পনা’ নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা যেন শেষ হচ্ছে না। এবার সরাসরি তার পদত্যাগ দাবি করেছেন নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট লিসে ক্লাভেনেস। নরওয়ে ছাড়াও ইউরোপের বেশ কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। টালমাটাল এই সময়ে অবশ্য মিত্রদেরও পাশে পাচ্ছেন ফিফা প্রধান। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে অস্থিরতা। ফিফা শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভাবনা থেকে পিছু হটলেও, নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিভক্ত কনফেডারেশন ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলো। কিছু সংস্থা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, আবার অনেক সংস্থা তার প্রতি আস্থা হারানোর কথাও বলছে। নরওয়ে ফুটবল প্রধান ক্লাভেনেস যেমন বলেছেন, ইনফান্তিনোর ওপর আর ভরসা করতে পারছেন না ফুটবল কমিউনিটি। এক বিবৃতিতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতেও বলেছেন তিনি। ‘আমরা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে স্থিতিশীলভাবে ফিফা পরিচালনার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা প্রয়োজন, সেটা তার ওপর নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলের পারস্পরিক সহযোগিতা ব্যাপকভাবে সংকটে পড়েছে। তাই এই মুহূর্তে আমাদের একত্র হওয়ার একটি কারণ দরকার। আমরা এখনই ফিফা সভাপতির কাছে অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি।’ ফুটবল বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আঞ্চলিক কনফেডারেশনের বিরুদ্ধে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএমএফ)। ইনফান্তিানোর সভাপতিত্ব নিয়ে ‘ব্যাপক পর্যালোচনার’ আহ্বান জানিয়েছিল কনক্যাকাফ। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) সর্বসম্মতিক্রমে বৃহস্পতিবার ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সমর্থন জানালেও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে যে, তারা বিশ্বকাপ এবং ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বর্জন করার সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। এশিয়ার কনফেডারেশন আগেই জানিয়েছে, তারা উয়েফা এবং কনক্যাকাফের সঙ্গে ‘একাত্মতা প্রকাশ করছে।’উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল পরিচালনা করে কনক্যাকাফ। ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো বৃহস্পতিবার বলেছে যে, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবটি কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং ‘সভাপতির ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।’












