নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান বা সন্দেহভাজন ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও দায়িত্বশীল অবস্থান থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান কী বক্তব্য দিতে পারেন কী না? বা আপনারাও কী একজন সাসপেক্টেড এবং একজন ক্রিমিনাল, তার বক্তব্য প্রচার করার জন্য আপনাদেরও কী মনে চায় কী না? সেটাও তো আমাদের প্রশ্ন থাকতেও পারে।
তিনি গতকাল শনিবার নগরের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভেরি ক্লিয়ারলি বক্তব্য দিয়েছে। আমি ওই অবস্থানেই থাকতে চাই। এবং সেটা ছাড়াও যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পরিচালক শাহীন আক্তার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) বাপ্পী চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দেশের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ এটি জলাবদ্ধতা হলে পানিতে ডুবে যায়। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিস–ইনফরমেশন ও ডিস–ইনফরমেশন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এসব মাধ্যমে শিক্ষণীয় ও সচেতনতামূলক রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউ মিডিয়া প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিস–ইনফরমেশন ও ডিস–ইনফরমেশন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনটি সঠিক তথ্য, কোনটি মিস–ইনফরমেশন এবং কোনটি ডিস–ইনফরমেশন তা শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন টুলস ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
এসময় বিটিভির অনুষ্ঠানের মান বাড়াতে ‘ফরেনসিক অডিট’ শুরু হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বলেন, অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশন, অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচারের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, বিটিভির জনপ্রিয় সিগনেচার অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িকে আরো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ির আবেদন গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শক–শ্রোতাদের বিটিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে এটুকু বলতে পারি, সাংবাদিকরা যখনই বিভিন্ন সময় আবেদন করেন আমরা ইফেকটিভলি যাতে সহযোগিতা করতে পারি সেদিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। যে বাজেট ট্রাস্টের জন্য দেওয়া হয়েছে, সেটা আরেকটু বাড়ানো যায় কী না সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।












