নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ

নগরে দুদিনে অপসারণ ১৬ হাজার টন, পরিচ্ছন্নকর্মীদের একাগ্রতার জন্য প্রণোদনা হিসেবে দুদিনের অতিরিক্ত বেতন দিল চসিক

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১ জুন, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নিবিড় তদারকি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ হয়েছে নগরে। সিটি মেয়রের দাবি, প্রথম দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বর্জ্য অপসারণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে শহরকে পরিচ্ছন্ন করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। এদিকে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের একাগ্রতার জন্য তাদের প্রণোদনা হিসেবে দুইদিনের অতিরিক্ত বেতন দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চলাকালে তাদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা উদযাপন করেন নগরবাসী। এদিন নগরের সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি দেন। পরদিন শুক্রবারও কোরবানির পশু জবাই করেন অনেকে। দুইদিনে নগরের ৪১ ওয়ার্ড থেকে প্রায় ১৬ হাজার টন কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ করে চসিক। এর মধ্যে প্রথম দিন প্রায় ১০ হাজার টন এবং দ্বিতীয় দিন ৬ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। গত বছর দুইদিনে ৯ হাজার ৮৯৩ টন কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ করে সংস্থাটি। এ বছর বর্জ্য বেড়ে যাওয়ার কারণ ছিলকোরবানি পশুর চামড়া। লাভের আশায় চামড়া কিনে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ক্রেতার অভাবে রাস্তায় ফেলে দেন চামড়া। যা অপসারণ করতে হয়েছে চসিককে। ফলে এবার মোট অপসারণকৃত বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নেন ৩ হাজার ২০০ শ্রমিক। তারা পাড়ামহল্লায় ঘুরে ঘুরে বর্জ্য সংগ্রহ করেছেন। সকাল ৯টা থেকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ কার্যক্রম মনিটরিং করেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য ছিল আমাদের। কিন্তু তার আগেই সব অপসারণ করা হয়েছে। দুই দিনে ১৬ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

পরিচ্ছন্ন কর্মীদের একাগ্রত সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, অবশ্যই তারাও আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের ৫ হাজার টাকা করে উপহার দিয়েছেন। আমরা অতিরিক্ত বেতন দিয়েছি এবং খাবারেরও ব্যবস্থা করেছি। সেবক কলোনিতে বহুতল ভবন করে তাদের থাকার সুবিধা উন্নত করছি। সবমিলিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তাই কাজেও আন্তরিক ছিল।

মেয়র বলেন, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ করতে আমরা পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থা করেছি। কর্পোরেশনের ডাম্প ট্রাক, কম্পেক্টর, পেলোডারসহ ৩৭৯টি গাড়ি ছিল। ঢাকায় গাড়ির সংকট থাকায় কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পরিষ্কার করতে পারেনি। এদিকে কোরবনির দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নগরের দামপাড়ায় স্থাপিত সিটি কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুমে মেয়র বলেন, নগরের কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়েছে। আমি সকাল ৯টা থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম তদারকি করেছি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিকালে কোরবানি দেওয়ার সংস্কৃতি থাকায় সেসব বর্জ্য অপসারণেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অনেকে ঈদের পরদিন কোরবানি দেন, সে বর্জ্যও আমরা অপসারণ করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসুন্দরবনের পর এবার যুক্ত হচ্ছে হালদা ও মারজাত বাঁওড়
পরবর্তী নিবন্ধকাজির দেউড়িতে বাসা থেকে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার