উত্তর আমেরিকা এবং কানাডাসহ সবখানে চলছে এখন সামার উৎসব। কানাডার টরেন্টোতে এখন প্রচুর বাঙালি তার মধ্যে সিংহভাগ সিলেটি। বেশিরভাগ এসেছে মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি থেকে। চলছে জেলা ওয়ারি পিকনিকের ধুম। বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, আঞ্চলিক সংস্থা, চট্টগ্রামের মেজবান সব হচ্ছে। কোন কোনটি আবার বিভিন্ন দলে বিভক্ত। প্রকৃতি এখানে অপরূপ সাজে সজ্জিত।
এই চার মাস স্কুল কলেজ বন্ধ। কেউ নৌ বিহারে চলে যায় দূরদূরান্তে। টরেন্টোয় এখন প্রচুর মসজিদ। তবে এখানে মাইকে আজান নেই। তবু ঠিকমতো নামাজ হয়। এখানে ধর্মনিরপেক্ষতার সৌন্দর্য দেখা যায়। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে স্কারবার্গ হেলথ নেটওয়ার্ক হাসপাতাল কিডনিসের জন্য সপ্তাহে তিন দিন যাই। এখানে হাসপাতালের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাও একবার দেখলে মনে হয় আমাদের আর হয়তো শত বছর লাগবে এদের মত হতে। নার্সদের সেবা মুগ্ধ করার মত। কানাডায় চিকিৎসার ব্যবস্থা সব সরকারি। খুব কম খরচে রোগীদের আনা নেওয়ার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা আছে। হাসপাতালের নিচে সব ধরনের লোকের জন্য ওয়ারশিপ বা প্রার্থনা রুম আছে একটি। সব ধর্মের লোক একসাথে এখানে নিজ ধর্ম অনুযায়ী উপাসনা করতে পারে। আমি থাকি ডেন ফোরথ বাঙালি এলাকায়। এখানে মেলা এবং ঈদের নামাজ হয়। আমি প্রতিদিন হাঁটি বিকেলে। প্রায় বিভিন্ন দেশের লোকের সাথে আর দেখা হয়। একজন বয়স্ক পাঠান ভদ্রলোক ও তার স্ত্রীর সাথে আমার প্রায় দেখা হয়। বাড়ি পাকিস্তানের পেশোয়ার। একেবারে খাস পাঠান। যতটুকু জানি ইংরেজি উর্দু নিয়ে ওর সাথে কথা বললাম আমাদের সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ–বিদেশে ভ্রমণ কাহিনি তার জন্মস্থান পেশওয়ার নিয়ে। আমি বাংলাদেশের খুব কৌতূহল তার। বয়স্ক লোক সীমান্ত গান্ধীকে চিনে, আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা জানে। সৈয়দ মুজতবা আলীর নাম শুনে জিজ্ঞেস করল উনি শিয়া কি না? আমি বললাম কেন তিনি বললেন নামের শেষে আলী আছে এইজন্য। আমি ভুল ভেঙে দিলাম। এইভাবে আসা–যাওয়া পথের ধারে। আজকে দেখলাম খান সাহেব এক পাগড়িওয়ালা ব্যক্তির সাথে হাঁটছেন। আমাকে দেখিয়ে ডাক দিল চৌধুরী বলে, আমাকে পরিচয় করে দিল তার সঙ্গে লম্বা চওড়া এক শিখ ভদ্রলোক। পূর্ব পাঞ্জাব তার বাড়ি। দুজনে হাত ধরে ধরে হাঁটছেন অথচ দুইজন দুই মেরুর। রাস্তার পাশে বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেন্ট। বিরাট দেশ কানাডা। প্রচুর জায়গা খালি। সব দেশের লোক দেখা যায় তার মধ্যে কালো আছে অনেক। এখানকার শ্বেতাঙ্গ দিবসই তাদের সাথে প্রায় দেখা হয় দেন নিত্য সঙ্গী কুকুর। কিন্তু এদের মনে কোনও রকম আমরা যে বাহির থেকে আসছি এই ব্যাপারে তাদের নাক সিটকনো ভাব নেই। প্রত্যেকের ছোট ছোট বাড়ি। বাড়ির সামনে এখন ফুলের সমাহার। মানুষ কখনো গাড়িতে, কখনো পায়ে হেঁটে, তারপর আছে মেট্রোরেল, সমস্ত রাত্রি চলে ইলেকট্রিক বাস সব মনে হয় আজকেই কিনেছে নতুন চকচকে। এদের যেন একটি নকশি কাঁথার মাঠ। নানান সুতায় গড়ে উঠেছে যা দেখার মত।












