ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসন নিয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশের কপি পেলে তা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেব। আদালত যদি নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন তাহলে এ আসনে নতুন করে নির্বাচন হবে। আর যদি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন, তাহলে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির অপেক্ষায় রয়েছে ইসি। রায়ের কপির পেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে কমিশন সভায় বসে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ভোটের নির্দেশনা এলে এ আসনে উপনির্বাচন হবে না, বরং নতুন তফসিল দিতে হবে বলে জানান তিনি। খবর বিডিনিউজের।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যোগ দিলেও মাত্র দুজন (চট্টগ্রাম–২ ও চট্টগ্রাম–৪) এখনো শপথ নিতে পারেননি। চট্টগ্রাম–২ আসনে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ও চট্টগ্রাম–৪ আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চার মাস ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকে।
সবশেষ গতকাল চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় দেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম–২ আসনের বিষয়ে হাই কোর্টে শুনানির কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম–৪ আসনে কি নতুন ভোট : সীতাকুণ্ড আসনে প্রার্থী ছিলেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার সিদ্দিকী, সিপিবি মো. মছিউদদৌলা, গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, নেজামে ইসলামী পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলনের দিদারুল মাওলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি–বিএসপির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও ইসলামী ফ্রন্টের সিরাজুদ্দৌলা।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পান। বেসরকারিভাবে জয়লাভ করলেও আদালতের আদেশে তার ফলাফল স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।
ভোটে জিতলেও ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত। এ রায়ের ফলে বিএনপি প্রার্থী আসলাম আর চট্টগ্রাম–৪ আসনের নির্বাচিত এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এখন ওই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে নতুন করে নির্বাচন হবে, আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে তা স্পষ্ট হয়নি।
ইসি মাছউদ বলেন, আদালতের আদেশে নির্বাচনের কথা বললে তাহলে আমরা নতুন করে তফসিল ঘোষণা করব। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবে। তিনি জানান, নির্বাচনে অযোগ্যতার বিষয়টি এ প্রার্থীর (আসলাম চৌধুরী) বহাল থাকলে নির্বাচন করতে পারবেন না; আর অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠলে অন্যদের মতো অংশ নিতে পারবেন। চট্টগ্রাম–২ আসনের বিষয়েও আদালতের যে নির্দেশনা আসবে সেভাবে অনুসরণ করা হবে।
আদালতের রায়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে যে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়টি না দেখে এর পরিণতি কী হবে তা বলা উচিত হবে না। এই আসনে উপনির্বাচন হতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হতে পারে। নতুন করে নির্বাচন হলে আসলাম চৌধুরী আবারও অংশ নিতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই।
রায়ের পর আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, প্রচলিত নিয়মে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তি অযোগ্য হলে পরেরজন নির্বাচিত ঘোষিত হয়। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে এবং নির্বাচন কমিশন তা নিষ্পত্তি করবে।












