চট্টগ্রামের ‘শস্যভাণ্ডার’ রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিল শুধু সোনালী ধান উৎপাদনের জন্যই নয়, বরং পরিচিতি লাভ করছে মহিষের উন্মুক্ত বিচরণক্ষেত্র হিসেবে। এই বিলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীর এক বিশাল বাজার, যাদের খামারে রয়েছে সহস্রাধিক মহিষ। আমন ও বোরো ধান কাটা শেষ হলেই পুরো বিলজুড়ে শুরু হয় মহিষের পালের উন্মুক্ত বিচরণ। মহিষের পালগুলোর স্থায়ী ঠিকানা এখন গুমাইবিল।
শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, বছর জুড়েই চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ওআইসি, ওরশ, বড় কোনো সভা বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য মহিষ কিনতে ছুটে আসেন এই বিলে। ঈদুল আজহাকে (কোরবানি) কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ার ব্রহ্মোত্তর রাস্তারমাথা এলাকায় বসেছে চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহত্তম মহিষের হাট। হাটের মূল আকর্ষণ গুমাইবিলের মহিষ। এছাড়া চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের আধুরপাড়া এলাকাতেও ছোট পরিসরে বসেছে গুমাইবিলের মহিষের হাট।
জানা যায়, এক সময়ের ঝিল বা জলাশয় গুমাইবিলকে ১৯৪৫ সালে সংস্কার করে আধুনিক চাষাবাদের আওতায় আনা হয়। স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ার ব্রহ্মোত্তর, হাবিবের গোট্টা, চন্দ্রঘোনা ও হোসনাবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে এখন হাজারো মহিষের রাজত্ব। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের মতে, সম্প্রতি মহিষ দিয়ে কোরবানি করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাছাড়া, সম ওজনের একটি গরুর চেয়ে মহিষের দাম অন্তত ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা কম হওয়ায় মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ এখন মহিষ। কোরবানি ঈদকে লক্ষ্য করে প্রায় এক বছর আগে থেকেই বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট মহিষ এনে এই বিলে লালন–পালন করা হয়।
চন্দ্রঘোনা এলাকার বড় খামারি মোজাহের সওদাগর জানান, তার খামারে ১৫০টি মহিষের মধ্যে কোরবানির জন্য ১০০টি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ১৫টি বিক্রিও হয়ে গেছে। দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শান্তি নিকেতনের ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল এবং কুতুবুল আলম জানান, গুমাইবিলে সর্বনিম্ন ৩ মন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯–১০ মন ওজনের বিশালাকৃতির মহিষ রয়েছে। ৩ মন ওজনের একটি মহিষের ন্যূনতম দাম ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। তবে এর চেয়ে বড় মহিষ কিনলে প্রতি মন গড়ে মাত্র ৩২ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানি উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার থেকে ব্রহ্মোত্তর রাস্তারমাথা এলাকায় শুরু হয়েছে উপজেলার একমাত্র এবং চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ এই মহিষের হাট।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার জানান, এবার রাঙ্গুনিয়ায় কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে ৪৫ হাজার। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিরা প্রস্তুত রেখেছেন প্রায় ৪৭ হাজার পশু। তিনি বলেন, কোরবানি ঈদে মহিষের চাহিদা এখন ব্যাপক। রাঙ্গুনিয়ায় তিন হাজার প্লাস মহিষও কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুমাইবিলকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা যেভাবে প্রাকৃতিকভাবে মহিষের পালন করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি পশুর স্থানীয় চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে।












