দুটি করিডোর ব্যবহার করে চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভেঙে দেয়া হচ্ছে নেটওয়ার্ক

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৩০ জুলাই, ২০২৬ at ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজিমুল হক বলেছেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নজরদারিতে রেখেছিল। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত তাকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার গতিবিধি বিশ্লেষণ করে পুলিশের ধারণা, তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা নজরদারির একপর্যায়ে তথ্য পাওয়া যায়, ডেভিড ইমন ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাকে গ্রেপ্তারে সেখানে অভিযানও পরিচালনা করা হয়। তবে অবস্থান পরিবর্তন করে তিনি যশোরের দিকে চলে যান। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল তাকে অনুসরণ করে যশোর পুলিশের সহযোগিতায় ঝিকরগাছা থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করে।

এডিশনাল ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে সাজ্জাদ বাহিনী, ইমন বাহিনী, রায়হান বাহিনীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দুটি করিডোর ব্যবহার করে পরিচালিত হতো। একটি জঙ্গল সলিমপুর এলাকা এবং অন্যটি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল। এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, অস্ত্র সংরক্ষণ ও পালিয়ে যাওয়ার নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই নেটওয়ার্ক ভাঙতে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে একের পর এক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গত দুই মাসে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অস্ত্রসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। সমপ্রতি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। এছাড়া আলোচিত ধামা ইলিয়াস ও সর্বশেষ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমনে শুধু ঘটনার পর অভিযান নয়, আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িজুড়ে ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তিসম্পন্ন এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এপিবিএনের চারটি ক্যাম্প স্থাপন, স্থায়ী চেকপোস্ট ও রোড ব্লক চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমিথ্যা ঘোষণায় অতিরিক্ত পণ্য আমদানি, জরিমানাসহ ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বেড়েছে লোডশেডিং