দিল্লির রাজপথেই থাকবেন ককোরোচ পার্টির সমর্থকরা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

| মঙ্গলবার , ২৩ জুন, ২০২৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

ভারতে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা জেনজি প্রজন্মের অভিনব আন্দোলনের দল ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমর্থকরা পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে রাজধানী দিল্লির রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির রাস্তায় তাদের আন্দোলন চলছে। জুন মাসের তীব্র গরমের মধ্যেই রাতভর রাস্তা ও ফুটপাতে অবস্থান করেছেন আন্দোলনকারীরা। তীব্র পুলিশি পাহারার মধ্যেই আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে আরও মানুষ সমবেত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথেই অবস্থান করার অনড় অবস্থান জানাচ্ছে। অনলাইনে ব্যাপকভাবে ভাইরাল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা বোস্টন ইউনিভার্সিটির সদ্য স্নাতক পাস করা অভিজিৎ দিপকে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেছেন। ভারতীয় যুবসমাজের মধ্যে জমাট বাঁধা ক্ষোভকে অনলাইন থেকে রাজপথে নামিয়ে আনতেই তার দেশে ফেরা। ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সী। প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফলে অনিয়মের কারণে চাকরি ও পড়াশোনার চরম চাপে থাকা যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই ককরোচ জনতা পার্টি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে।

যেভাবে কৌতুক থেকে আন্দোলনের জন্ম : কিছুদিন আগেও এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবলই কৌতুক আর ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য তরুণ প্রজন্মকে তেলাপোকা বা ককরোচের সাথে তুলনা করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সে সময় এক্সএ অভিজিৎ দিপকে লিখেছিলেন, সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তবে কী হবে? মুহূর্তের মধ্যে এই পোস্ট ভাইরালে রূপ নেয়। দিপকে দলটির জন্য একটি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং এর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা ভারতের গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ক্ষমতাসীন দলের ফলোয়ারের চেয়ে দ্বিগুণ। গত ৬ জুন নতুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ করার পর মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নাগপুরসহ বেশ কয়েকটি শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের হতাশা ও টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ : নয়াদিল্লির নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে মধ্যরাতেও ১৮ বছর বয়সী শচীন কুমার তার নতুন বন্ধু শুভঙ্করের সাথে রাস্তায় শুয়ে হেডফোনে গান শুনছিলেন। কুমার গত মাসে ভারতের শীর্ষ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য এক বছর কঠোর পড়াশোনা করেছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভারতের উত্তরপ্রদেশে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৩
পরবর্তী নিবন্ধমমতা, অভিষেককে বাদ দিয়ে তৃণমূলের আলাদা কমিটি বিদ্রোহীদের