মীরসরাইয়ের হিঙ্গুলী ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার দিবাগত রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি ডাকাতদল বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় প্রবাসীর পিতা নুরুল আলমকে কুপিয়ে জখম করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দুটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায় তারা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের ওই বাড়িতে নুরুল আলমের দুই ছেলে সিঙ্গাপুর ও কাতারে থাকেন। রাতে ডাকাতেরা তাদের ঘরের দরজা ও বেলকনির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ও ওয়ারড্রোব তল্লাশি করে। বাধা দিতে গেলে নুরুল আলমকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
কাতারপ্রবাসী নুরউদ্দিনের স্ত্রী সাহেলা আক্তার সুমি বলেন, আমরা সবাই ঘুমে ছিলাম। আমাদের বেলকনির দরজা ভেঙে আমাকে বেঁধে এবং আমার ছেলে–মেয়েকে অস্ত্র ধরে বলে যা আছে দিয়ে দিতে। এরপর আমার শ্বশুরকে মারধর করে। ঘরের সব জিনিসপত্র এলোমেলো করে স্বর্ণ, টাকাপয়সা আর দুইটা মোবাইল নিয়ে যায়।
সিঙ্গাপুরপ্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, ওরা সবাই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে। কারও হাতে ছুরি, কারও হাতে পিস্তল। কাউকে চিনতে পারিনি। তবে গলার আওয়াজে স্থানীয় মনে হয়েছে।
নুরুল আলম বলেন, আমাদের বাড়িতে আমি ছাড়া কোনো পুরুষ নেই, সবাই প্রবাসে। গতকাল (সোমবার) রাতে ১৫–২০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার বড় ছেলে এবং মেজো ছেলের ঘরের দরজা ভেঙে আলমিরা, ওয়্যারড্রোব থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ, নগদ আড়াই লাখ টাকা এবং দুইটি মোবাইল নিয়ে যায়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। মাথায় অস্ত্র ধরে রাখে।
ডাকাতির খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। ঘটনার বিস্তারিত জানার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।












