তিন প্রতিবেশীকে আটকের পর মিলল নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দী লাশ

পটিয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ১৯ জুন, ২০২৬ at ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

পটিয়ায় নিখোঁজের এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশু জায়হানকে মাথায় হাতুড়ির আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তিন প্রতিবেশীকে আটকের পর পুলিশের কাছে এমন লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করেন তারা। জায়হান নামের শিশুটি মঙ্গলবার নিখোঁজ হয়েছিল, তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বাড়ির পিছনে ময়লাযুক্ত পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তাবন্দী অবস্থায়। বুধবার রাত ৩টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক।

তিনি জানান, বুধবার রাত ৩টার দিকে প্রতিবেশীর বাড়ির কাছে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তাবন্দী অবস্থায় গর্ত থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তিন প্রতিবেশীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দার খিল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামের প্রতিবেশী সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৮), তার পিতা সাইফুদ্দীন ওরফে কালা সাইফু (৩৯) ও মা শাহনুর আকতার (৩৫)

এদিকে বিডিনিউজ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেপ্তার নিহা সম্পর্কে জায়হানের প্রতিবেশী ফুফু। মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটির সঙ্গে সে ফুটবল খেলেছিল। একপর্যায়ে বাড়িতে নিয়ে শিশুটিকে খুন করে। পরে লাশ গুমের জন্য দুটি বস্তায় ভরে বাড়ির পেছনে ময়লায় ভেতরে ফেলে ঢেকে রাখা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, বুধবার নিহাকে তার বাবা, মা ও ভাইসহ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।

যেভাবে রহস্য উদঘাটন : জায়হান হত্যার ঘটনা ‘অনেকটা ক্লুলেস’ ছিল মন্তব্য করে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, চিরকূটের সূত্র ধরে জায়হানের প্রতিবেশী কয়েকটি ঘরে তল্লাশি করে পুলিশ। একপর্যায়ে যে ধরনের প্যাডে চিরকূট লেখা হয়েছে সেই একই ধরনের প্যাড ও চিরকূটের নমুনা নিহার বাসায় পাওয়া যায়।

রাতে নিহাকে থানায় নেওয়ার পর সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চিরকূট লেখার কথা স্বীকার করে। তার হাতের লেখার সঙ্গে চিরকূটের লেখা পুরোপুরি মিলে যায়। তবে এসময় সে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির জোরাজুরিতে চিরকূট লেখে বলে দাবি করে। পরে ওই ব্যক্তিকেও নিহার মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে নিহা নিজে চিরকূট লেখা এবং শিশুটিকে খুন করার কথা স্বীকার করে।

এদিকে শিশু জায়হানের নামাজে জানাজা বৃহস্পতিবার বাদে মাগরিব পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দার খিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। শত শত মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে শিশু জায়হানের বাড়িতে মানুষের ভিড় জমে। লোমহর্ষক এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে বিলাপ করছেন শিশুটির বাবামা। তারা একমাত্র পুত্র সন্তানের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন।

দুপুরে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় আসে। এসময় পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক হত্যাকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন।

ওসি জিয়াউল হক বলেন, ‘ওই প্রতিবেশীর পরিবারের সাথে শিশুটির পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে প্রতিবেশী অপর এক ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য নিহা খুন করেছে। কারণ জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে প্রতিবেশী ওই ব্যক্তির নাম বলেছে এবং তাকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা মেলেনি।’

মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌর সদরের দক্ষিণ গোবিন্দরখিল গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বয়সী জায়হান। সে ওই এলাকার গ্যারেজ মালিক শাহজাহানের ছেলে।

নিহত শিশুর পিতা শাহজাহান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তার ছেলে নিখোঁজ হয় এবং সাড়ে ৩টার দিকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি চিরকূট ঘরে পান। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রাতে পটিয়া থানায় জিডি করেন। টাকা না দিলে এবং পুলিশের কাছে গেলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় হাতে লেখা ওই চিরকূটে।

চিরকূট পাওয়ার বিষয়ে শাহজাহান বলেছিলেন, কে বা কারা কখন এই চিরকূট তার বাসার ভেতরে রেখে গেছে তিনি জানেন না। তার সঙ্গে কারো কোনো পূর্ব শত্রুতা নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ সেনাবাহিনী বহির্বিশ্বেও অবদান রাখছে : সেনাপ্রধান
পরবর্তী নিবন্ধঅপটিক্যাল ফাইবারের কাজে কাটা পড়ল ওয়াসার পাইপ, পানিতে ভাসলো চেরাগী মোড়