ডায়াবেটিক হাসপাতালের সাবেক সভাপতিসহ দুজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সরকারি অনুদানের ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে বরাদ্দকৃত সরকারি অনুদানের ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল নিজ কার্যালয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপসহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে ২০১৮–১৯ অর্থবছর থেকে ২০২২–২৩ অর্থবছর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালকে বিভিন্ন খাতে (বেতন–ভাতা, এমএসআর, পণ্য ও সেবা, এবং গরিব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান) ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত এসব সরকারি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন। হাসপাতালের পক্ষে মো. বেলাল উদ্দীনকে ‘বায়নানামা গ্রহীতা’ সাজিয়ে আর মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী নিজেকে ‘বায়নানামা দাতা’ দেখিয়ে ২০২০ সালের ৪ জুলাই একটি অনিবন্ধিত জমি বিক্রয়ের বায়না দলিল সৃজন করেন। ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর রাঙামাটিয়া গ্রামের ৬.৪৪ একর জমির ওই বায়না দলিলে দাম দেখানো হয়েছিল ৯ কোটি টাকা। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, উক্ত জমি ক্রয়ের জন্য হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ বা সমিতির নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং কোনো সিদ্ধান্ত বা বোর্ড রেজুলেশন নেওয়া হয়নি। এমনকি জাহাঙ্গীর চৌধুরী যে সভার কার্যবিবরণী প্রদর্শন করেছিলেন, তা সঠিক ছিল না। এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাটহাজারীর রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই জমির কোনো নামজারি বা জমাভাগ খতিয়ানও সৃজন হয়নি।

এজাহারে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত অনুদানের চেকগুলো প্রথমে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক আন্দরকিল্লা শাখায় হাসপাতালের নামে খোলা অ্যাকাউন্টে জমা করা হতো। সেখান থেকে ২০২০ সালের ২৯ জুন থেকে ২০২১ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত ১৮টি চেকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা জমা হয়। নির্দিষ্ট খাতে খরচ না করে ১ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর চৌধুরী সেই টাকা থেকে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখায় নিজের ব্যক্তিগত চলতি হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন।

এজাহারে বলা হয়, সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. শাহাব উদ্দিন ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যাওয়ার পর পরবর্তী কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের সমস্ত লেনদেন বন্ধ থাকার নিয়ম থাকলেও জাহাঙ্গীর চৌধুরী মৃত কোষাধ্যক্ষের পূর্ব স্বাক্ষর করা চেক ব্যবহার করে উক্ত টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন। সব মিলিয়ে সরকারি অনুদানের ২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সিডিবি প্রকল্পের ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকাসহ মোট ২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারায় অভিযুক্তরা অপরাধ করেছেন।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমাদন সাপেক্ষে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক আল আমিন আজাদীকে বলেন, তদন্তকালে এই অপরাধের সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী ২০০২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটির সাধারণ সম্পাদক, ২০২১ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাস কালেকশনের টাকা তুলছেন বিএনপি নেতা
পরবর্তী নিবন্ধচলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৪ শতাংশে : বিশ্বব্যাংক