ডারউইনে জয়ের ছবি আঁকছে বাংলাদেশ

ইনিংস পরাজয় এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন আরও ৬৭ রান, হাতে ৬ উইকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক | রবিবার , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ

তিন দিন ধরে দাপুটে পথচলার পর বাংলাদেশ কি ইতিহাসের ডাক শুনতে পাচ্ছে? তাদের লক্ষ্য এখন অনেকটা দৃষ্টিসীমায়। আর ঠিকানার নাম ইতিহাস। তবে বাংলাদেশকে আরো বেশ কিছুটা পথ পাড়ি দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়ানরাও গড়তে চাইবে প্রতিরোধ। তবে এই মুহূর্তে শঙ্কার চেয়ে সম্ভাবনার তেজই বুঝি খুব বেশি। ডারউইনে জয়ের ছবি এখন আঁকতেই পারে বাংলাদেশ। ডারউইনের প্রথম টেস্টে ইনিংস পরাজয় এড়াতেই অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন আরও ৬৭ রান। উইকেট আছে ৬টি। বাংলাদেশের তৃতীয় দিনের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সাতে নেমে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দারুণ এক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। উপহার দিয়েছেন ৬৫ রানের লড়িয়ে ইনিংস। বাংলাদেশ পেয়েছে ২২৮ রানের লিড। মিরাজ পরে বল হাতে দলকে এনে দিয়েছেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেট। বিদায় করেছেন উইকেটে জমে বসা স্টিভেন স্মিথকে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১। অস্ট্রেলিয়ার টানা তৃতীয় হতাশাময় দিনের সান্ত্বনা জশ হ্যাজেলউডের একটি মাইফলক। ১৩ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে ৬ উইকেট নিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। এর পঞ্চমটিতে অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে পূর্ণ করেছেন ৩০০ টেস্ট উইকেট। ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। তবে হাসান মাহমুদ এ দিন বেশিক্ষণ টেকেননি। দিনের চতুর্থ ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে যান হ্যাজেলউডের বলে। ৯২ বল খেলে ১৪ রান করলেও ক্রিজে কাটিয়েছেন মূল্যবান ১৬৩ মিনিট। মিরাজের সঙ্গে তার জুটি থামে ১৭০ বলে ৪৬ রানে। তবে অস্ট্রেলিয়ানদের হতাশার প্রহর চলতেই থাকে। তাইজুল খেলেন ১৭ রানের ক্যামিও ইনিংস, যেখানে ছিল হ্যাজেলউডের বলে ফ্লিক করে চোখধাঁধানো শটের এক ছক্কা। তিনিও বিদায় নেন ওই ওভারেই।

তবে অস্ট্রেলিয়ানদের যন্ত্রণায় ডুবিয়ে নবম উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ। টেইল এন্ডারদের নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রেখে, প্রয়োজন বুঝে প্রান্ত বদল করে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং করেন মিরাজ। লেগ সাইডে ছাতার মতো ফিল্ডার সাজিয়ে বাউন্সারের কৌশল নেয় অস্ট্রেলিয়া। তা কাজে লাগেনি। তাসকিনের সহজ ক্যাচ ছাড়েন স্মিথ। মিরাজের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি ট্রাভিস হেড। লাঞ্চের আগে শেষ বলে দারুণ ছক্কায় মিরাজ বুঝিয়ে দেন বাংলাদেশের দাপট।

লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই থামে মিরাজের লড়াই। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের অমূল্য অবদান রাখা ক্রিকেটারকে ফিরিয়ে তিনশ উইকেটের সীমানায় পৌঁছে যান হ্যাজেলউড। শেষ ব্যাটার ইবাদত হোসেন চৌধুরি বিশাল এক ছক্কায় গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন ন্যাথান লায়নকে। তাকে বিদায় করেই ইনিংসের ইতি টানেন হ্যাজেলউড।

বড় লিডের পর বোলিংয়েও বাংলাদেশ সাফল্য পায় দ্রুত। ইনিংসের দ্বিতীয় ও হাসান মাহমুদের প্রথম ওভারেই শরীরের কাছের বল কাট করার চেষ্টায় স্টাম্পে টেনে আনেন জেইক ওয়েদেরল্ড। তিনি পারেননি রানের খাতা খুলতে। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট শিকারি হাসান এরপর বিদায় করেন বিপজ্জনক হেডকেও। সঙ্গীর মতো তিনিও কাট করার চেষ্টায় বল টেনে আনেন স্টাম্পে। এরপর মার্নাস লাবুশেন এবং স্মিথ দুজনে মিলে ইঙ্গিত দেন জুটি গড়ে তোলার। তবে সেই চেষ্টা সফল হতে দেননি তাইজুল ইসলাম। গতি বৈচিত্র্য আর আক্রমণাত্মক লেংথের মিশেলে লাবুশেনকে বোল্ড করে দেন তিনি ৩১ রানে।

স্মিথ এরপর আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে। উইকেট তৃতীয় দিনেও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো, এই জুটিও থিতু হয়ে যায় দ্রুত। তবে তাদের রানের রাশ টেনে ধরেন মিরাজ। স্মিথকে ক্রিজে আটকে রাখেন তিনি। তাতেই কাজ হয়। মনোযোগ হারিয়ে আলগা শট খেলে মিরাজকেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি ৪৪ রানে। বড় বাধা যেন সরে গেল তাতে করে।

গ্রিন ও অ্যালেঙ কেয়ারি এরপর প্রায় ১৬ ওভার নির্বিঘ্নে পার করে দেন। চতুর্থ দিনে তাদের সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড়। এই জুটির পর আছেন বিউ ওয়েস্টার। স্বীকৃতি ব্যাটারদের একজন তিনি। দেশের মাঠে এত বড় লিড ঘুচিয়ে কখনও টেস্ট জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তাদেরকে তাই গড়তে হবে ইতিহাস।

পূর্ববর্তী নিবন্ধছাগল বেপারির কোমর থেকে ১৬ লাখ টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ৩
পরবর্তী নিবন্ধগ্যাস সংকট, টানা ৫ মাস ধরে বন্ধ সিইউএফএল