টাকার লোভে সদ্যজাত নাতিকে বিক্রি

নানিসহ গ্রেপ্তার ৩

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৭ অক্টোবর, ২০২১ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চুরি হয়ে যাওয়া নবজাতক গতকাল বুধবার হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির নানি রাবেয়া খাতুনসহ মো. হারুন (৫৫) এবং মনোয়ারা বেগম (৩৭) নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকের মা তানিয়া বেগমকে তার স্বামী বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে গর্ভাবস্থায় তিনি তার মায়ের বাড়িতে অবস্থান নেন। এক সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দারিদ্রতার কারণে তার মা চিকিৎসার খরচ চালাতে অপারগ হন। পরে তিনি হারুন ও মনোয়ার বেগম নামের দুইজনের সঙ্গে বাচ্চাটি পাচারের পরিকল্পনা করেন এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মোট ৫৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। গত ২ অক্টোবর নবজাতকটি প্রসবের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাবেয়া খাতুন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে মেয়ে তানিয়াকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গত মঙ্গলবার দুপুরের কোনো একসময় সবার অজান্তে নবজাতকটিকে হারুন ও মনোয়ারার কাছে দিয়ে দেয়। পরে নবজাতকের মা হাসপাতালে এসে বাচ্চাকে দেখতে না পেয়ে জানতে চাইলে তিনি (বাচ্চার নানী) নবজাতকটি চুরি হয়ে গেছে বলে জানায়। সন্তান হারিয়ে শেষে তানিয়া থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন।
এ ব্যাপারে পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, নবজাতক চুরি হয়ে গেছে মর্মে শিশুটির মা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ রাবেয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন তিনি শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ (গতকাল) হাটহাজারী ফতেয়াবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার দিন বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হারুন ও মনোয়ারাকে গ্রেপ্তার করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআরও ৮০ হাজার রোহিঙ্গা যাবে ভাসানচরে
পরবর্তী নিবন্ধতারের জঞ্জাল যাবে মাটির নিচে, সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু