জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না, প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফলও দেখতে চাই। একজন তরুণ যখন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তখন তার জীবন যেমন বদলায়, তেমনি বদলে যায় একটি পরিবার, একটি সমাজ। গতকাল বুধবার জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ‘বিশেষ কার্যক্রম–কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক–বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাকরি প্রদান ও কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়।
সাধারণত প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদের পাশাপাশি চাকরির নিয়োগপত্রও পেলেন ঝরে পড়া তরুণ–তরুণীরা। অষ্টম শ্রেণির পর বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৪৬ জন তরুণ–তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান ও জেলা শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বক্তব্য দেন, কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিমুল কান্তি মহাজন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চৌধুরী ইলেকট্রনিঙের স্বত্ত্বাধিকারী রূপম চৌধুরী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের অনেক শিশু–কিশোর নানা বাস্তবতায় শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়ে। কিন্তু ঝরে পড়া মানেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণ মানেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি ট্রেডে যথাক্রমে–টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিংয়ে মোট ৭৭ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৭৩ জন উত্তীর্ণ হন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানের দিনই ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












