জ্বালানি সংকটের সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে সরকার

আজাদী ডেস্ক | সোমবার , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ

দেশে জ্বালানি সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, অল্প সময়ে তার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন না অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরে সমাধান হবে না। এর জন্য ন্যূনতম দুই বছর লাগবে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এ ধরনের অবকাঠামো তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। ফলে জ্বালানি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক সভায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। সরকার বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলেও জানান তিনি। খবর বিডিনিউজের।

অ্যামচেমের সভায় ব্যবসার ক্ষেত্রে রেগুলেটরি বাধা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে আরো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন আমির খসরু। বিদ্যমান নিয়ম শিথিল করার উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে পারেন, সেজন্য নেওয়া ব্যবস্থার কথাও বলেন। মন্ত্রীর ভাষ্য, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের প্রক্রিয়া আরো সহজ করার উদ্যোগের কথা বলেন তিনি। বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে উদীয়মান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে এ সম্ভাবনা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। সংস্কারের উদ্যোগকে দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য ফলাফলে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে সরকার : বাসস জানায়, বাংলাদেশের অর্থায়ন কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বেশ কয়েকটি বড় বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা মোটেও সঠিক নয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হলেও তারা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণ করছে। অথচ বড় বিনিয়োগের অর্থায়ন হওয়া উচিত পুঁজিবাজারের মাধ্যমে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ব্যাংকঋণনির্ভর ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে আছে। এ কারণে সরকার বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থায়নের কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বাইরেও নতুন অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে বিকল্প অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমির খসরু বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বহু আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য ব্যবহার করছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। এখন সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বন্ডের সুদের হার ব্যাংকঋণের সুদের হারের তুলনায় কম। এছাড়া ইকুইটিভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগও রয়েছে। ফলে অর্থায়নের ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাপ্তাই হ্রদ থেকে ৫ দিনে বাজারে গেল ৬৪০ টন মাছ
পরবর্তী নিবন্ধবৃক্ষমেলায় বেশি আকর্ষণ বনসাইয়ে