চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের পাইকারি এবং খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের প্রস্তাব তৈরি করতে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। গত ৯ এপ্রিল জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই কমিটি এমন এক প্রেক্ষাপটে গঠিত হল, যখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম নির্ধারণের আইনি কাঠামো গত কয়েক বছরে একাধিকবার বদলেছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের এই কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, অর্থ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব সদস্য হিসেবে আছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনার পর বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে এই কমিটি। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য নিতে পারবে, প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের সচিবিক সহায়তা দেবে। খবর বিডিনিউজের।
২০২২ সালের শেষে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন–বিইআরসি, আইন সংশোধন করে ৩৪(ক) ধারা যোগ করা হয়। ওই ধারার মাধ্যমে গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের ক্ষমতা সরকারের হাতে যায়। ২০২৩ সালের শুরুতে সরকার ওই ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি দেখিয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে ওই ৩৪(ক) ধারা বিলোপ করা হয়। তখন সরকার বলেছিল, এর ফলে গণশুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি আবার বিইআরসির প্রক্রিয়ায় ফিরছে। এতে প্রায় দেড় বছর পর গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা আবার বিইআরসির কাছে ফিরে যায়। সে হিসাবে, নতুন এই মন্ত্রিসভা কমিটিকে দাম নির্ধারণের আইনগত ক্ষমতা সরকারের হাতে ফেরানোর পদক্ষেপ বলা যাচ্ছে না। বরং এটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির পাইকারি এবং খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের জন্য সরকারের প্রস্তাব প্রণয়নের উদ্যোগ। অর্থাৎ বিইআরসির আইনগত কাঠামো বহাল রেখেই সরকার আবার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় হয়েছে।












