চুরির অভিযোগে নগরে মো. জয়নাল (২৭) নামে এক যুবকে ‘পিটিয়ে’ হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রোববার কোতোয়ালী থানার পলোগ্রাউন্ড এলাকার রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। জয়নালের পরিবারের দাবি, তাকে মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্কুলের দুই দারোয়ান আজাদ ও সমীরকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভ করে স্থানীয় জনতা। নিহত জয়নাল ধনিয়ালাপাড়া ছোট মসজিদ এলাকার দুলালের ছেলে।
দারোয়ান আজাদ ও সমীর দাশের অভিযোগ, শনিবার দিবাগত রাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের পেছনে জানালার গ্লাস খুলে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে জয়নাল কম্পিউটার চুরির চেষ্টা করে। এ সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। এদিকে জয়নালের পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি করেছেন, চুরির অভিযোগ শনিবার রাতভর বেঁধে রেখে জযনালকে মারধর করা হয় এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। গতকাল সকালে আরেক দফা মারধর করার পর মৃত্যু হয় জয়নালের। তার মরদেহ স্কুলের সামনে ফুটপাতে ফেলে রাখা হয়।
এদিকে জয়নালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে জড়ো হন তার স্বজন ও আশেপাশের লোকজন। তারা সেখানে বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন। এরপর ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধারে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। তারা পুলিশের গাড়িতে লাশ তুলতে বাধা দেন। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে প্রায় আধ ঘণ্টা পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
ঘটনাস্থলে নিহত জয়নালের মা ছেনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলে গতকাল ‘ঘুরে আসি’ বলে বের হয়। এখানে চুরি করেছে কি না জানি না। কিন্তু চুরি করলে মেরে ফেলতে পারে? দোষ করলে থানায় নিয়ে যেত অথবা পরিবারের সদস্যদের বলত। মেরে ফেলতে পারে না। আমার ছেলেকে কারেন্টের শক দিয়ে হত্যা করেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
এ সময় জয়নালের ভাই মো. বেলাল বলেন, আমার ভাই হোন্ডায় রং করার চাকরি করত। সে যদি দোষ করত তাহলে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে পারত অথবা আমাদের বুঝিয়ে দিলে বিচার করতাম। একটা সমাধান করতাম। তাই বলে কারেন্টের শক দিয়ে মেরে ফেলবে!
এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়া জয়নালের এক বোন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই দোষ করলে ৯৯৯–এ কল দিতে পারত। মেরে ফেলবে কেন? প্রধান শিক্ষক ও দায়ীদের বিচার চাই।
এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখানে ঘুমাচ্ছিলাম। ভোরে রেলওয়ে পাবলিক স্কুলের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় চারজন ধরে জয়নালকে সড়কে ফেলে রাখে। জয়নাল পানি খেতে চায়। চুরি করছে বলায় কেউ কিছু বলেনি। এ সময় তাকে সেখানে লাথি মারা হয়। এরপর জয়নালের মৃত্যু হয়।
জয়নালের স্বজন পরিচয়ে এক যুবক বলেন, প্রধান শিক্ষক দায়ী। দারোয়ানকে তারা লুকিয়ে রাখে।
এদিকে জয়নালের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা শুরু হলে স্কুলের গেট বন্ধ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে। এ সময় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ বসু সাংবাদিকদের বলেন, শুনেছি দেয়াল টপকে নেশাগ্রস্ত একজন স্কুলে চুরি করতে এসেছে। পরে নাকি শকটক খেয়েছে। ও (জয়নাল) নেশাগ্রস্ত ছিল তো, কথা বলতে পারছে না। ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। পরের ঘটনা জানি না।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, জড়িত থাকার সন্দেহে আমরা দুজনকে আটক করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পিটিয়ে বা অন্যভাবে হত্যা হতে পারে। আমাদের তদন্ত চলমান। যেই জড়িত থাকুক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।











