বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল দুপুর ১টার দিকে আয়াতুল ইসলাম নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শিশুর অভিভাবকরা ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স লুনা আক্তার ও হাসপাতালের আরএমও ডা. মুমিনুল হকের ওপর চড়াও হন। পরে ইউএনও দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান স্বজনরা। শিশু আয়াতুল ইসলাম (১মাস ২৮দিন) সরল ইউনিয়নের পূর্ব কাহারঘোনা এলাকার সৈয়দ আহমদের পুত্র।
নিহতের আত্মীয় ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন,‘শনিবার রাতে ভর্তি করা শিশু আয়াতকে। রোববার সকালে শিশুটিকে দেওয়ার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপসন অনুসারে ফার্মেসি থেকে ইনজেকশন কিনে দিলেও নার্স সেটা না দিয়ে অন্য একটা ইনজেকশন দেন। তাতে শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে নার্স ইনজেকশনের কভারসহ সবকিছু লুকিয়ে ফেলেন।’ ব্যবসায়ী আবদুর রহিম ভুল ওষুধের ফলে শিশুটি মারা যায় বলে দাবি করেন।
পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত স্বজনদের বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে ইউএনও’র অনুপস্থিতিতে নিহত বাবা–মা ও স্বজনদের নিয়ে থানা পুলিশ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকনের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে স্বজনেরা লাশ বাড়ি নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও আরএমও ডা. মুমিনুল হক বলেন, শনিবার রাতে অসুস্থ শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হলে তার স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকন বলেন, শিশুর অভিভাবক ও স্বজনরা লাশ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে এসেছিলেন। তারা ইউএনও বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন। ইউএনও’র অনুপস্থিতিতে আমি অভিযোগ গ্রহণ করি। তিনি এলে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তারা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
বৈঠকে উপস্থিত থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। পরে শিশুটির স্বজনরা ইউএনও বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রবিউল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে একটি শিশুর মৃত্যু হওয়ায় তার আত্মীয়–স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়। পরে শিশুর স্বজনেরা ইউএনও কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ নাজমা আক্তার বলেন, আমি আজ (গতকাল রোববার) জেলায় মিটিংয়ে আছি। খবর নিয়ে দেখেছি, শিশুটি ভর্তি হওয়ার পর থেকে চারজন ডাক্তার বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা দিয়েছেন। কি কারণে শিশুটি মৃত্যুবরণ করেছে তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।











