আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী বাজারে চারজন দারোয়ান পাহারায় থাকার মধ্যেই এক রাতে অন্তত ১০–১২টি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দোকানগুলো থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল খোয়া গেছে। ভাঙা হয়েছে দুটি মসজিদের দানবাঙও। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বাজারের ভেতরে এক তরুণীকে বিভিন্ন দোকানে ঢুকতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার ভোররাতে চাতরী চৌমুহনী বাজারের কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সকালে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে এসে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এক তরুণীকে বাজারের অলিগলিতে ঘোরাফেরা এবং কয়েকটি দোকানে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ওই তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২১ বছর। ফুটেজে তাকে বিভিন্ন দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে। ঘটনার সময় বাজারের বাইরে চারজন দারোয়ান নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এতগুলো দোকানে চুরি হলেও তারা বিষয়টি টের না পাওয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে জাবেদ স্টোর, রাকিবের শুঁটকির দোকান, মিরাজের মুরগির দোকান, আনোয়ারের লাকড়ির দোকান, মামুন স্টোর, শামসু স্টোর, শফি স্টোর, মোজাহের সওদাগরের পানের দোকান ও নাছির স্টোরসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
জাবেদ স্টোরের মালিক মো. জাবেদের দাবি, তার দোকান থেকে তেল, দুধসহ ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মালামাল চুরি হয়েছে। তিনি বলেন, সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি তেল, দুধসহ বিভিন্ন মালামাল নেই। পরে সিসিটিভি ফুটেজ এক তরুণীকে দোকানে ঢুকতে দেখি। পাশের আরও কয়েকটি দোকানেও একই কায়দায় চুরি হয়েছে।
শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. রাকিবের দাবি, তার দোকান থেকে নগদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারে চারজন দারোয়ান থাকার পরও একজন তরুণী কীভাবে ১০–১২টি দোকানে চুরি করলেন, সেটিই আমাদের প্রশ্ন। এ ঘটনা নিয়ে বাজার কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এ ছাড়া আনোয়ারের লাকড়ির দোকান থেকে প্রায় এক হাজার টাকা, শফি স্টোর থেকে ওজন মাপার স্কেল এবং নাছির স্টোরসহ কয়েকটি দোকানের ক্যাশবাঙ ভেঙে নগদ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। একই রাতে দুটি মসজিদের দানবাঙও ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারে দায়িত্ব পালনকারী এক দারোয়ান বলেন, রাতে একজন মেয়েকে বাজারে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছিলাম। তবে তাকে সন্দেহজনক মনে হয়নি। তাই কিছু জিজ্ঞাসা করিনি। এই বক্তব্যের পর বাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের কয়েকজনের সন্দেহ, এতগুলো দোকানে চুরির ঘটনায় ওই তরুণীর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, চাতরী চৌমুহনী বাজারে চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারপরও ঘটনাটি আমরা জেনেছি। পুলিশ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনবে।










