দীর্ঘ সময় ধরে নানা অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবতে বসা ব্যাংক বহির্ভূত চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে প্রশাসক বসিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ চার এনবিএফআই (ব্যাংক বর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) হল– আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। খবর বিডিনিউজের।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ‘অবসায়ন’ নিয়ে আলোচনায় থাকা ছয় এনবিএফআইয়ের মধ্যে শেষ পর্যন্ত চারটির বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আপাতত অকার্যকর হওয়ার তালিকা থেকে রক্ষা পেয়েছে পিপলস লিজিং ও প্রিমিয়ার লিজিং। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ চার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা গতকাল রোববার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, অকার্যকর ঘোষণা ও প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এ চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে আর্থিক অনিয়মে জেরবার হওয়া এফএএস ফিন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফিন্যান্স, আভিভা ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেসময় এগুলোকে অবসায়ন করার পাশাপাশি গত জানুয়ারিতে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে কার্যকর করতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। গত এপ্রিলে সেই সময় শেষ হয়।
এরপর গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রিমিয়ার লিজিং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডকে (বিআইএফসি) ‘অকার্যকর’ ঘোষণা থেকে বাঁচতে নতুন করে তিন মাস সময় দেয়।
রোববারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ চার প্রতিষ্ঠান রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়ার অর্থ ব্যাখ্যা করে শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রশাসকরা এখন ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইনের টুলসগুলো প্রয়োগ করবেন। তার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থা দেখবেন। একেক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন টুলস হতে পারে। হয়ত কোনোটির অবসায়নে যাওয়ার সুপারিশ করবেন, কোনোটিতে নতুন তহবিল যোগানোর সুপারিশ করবেন।
তা (এগুলো) যাচাই–বাছাই করে সিদ্ধান্ত আসবে। যদি অবসায়নের সিদ্ধান্ত হয়, তখন উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে। তখন তা অবসায়ন হয়ে যাবে।’
অকার্যকর ঘোষণার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আর্থিক খাতে সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ এর আওতায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশেষ করে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ/বিনিয়োগ, তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধে অক্ষমতা এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। একইসঙ্গে রেজল্যুশন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশাসক ও সহকারী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি সাধিত হবে। তবে কোন কর্মকর্তাকে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক ও সহকারী প্রশাসক করা হয়েছে সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি।











