চবিতে চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস

চবি প্রতিনিধি | বুধবার , ৫ আগস্ট, ২০২৬ at ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস২০২৬’ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর গ্যালারি ও চাকসু কেন্দ্রে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকান।

সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর গ্যালারিতে চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনীর উদ্বোধন এবং সকাল সাড়ে ১১টায় চাকসু কেন্দ্রে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (একাডেমিক) ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস২০২৬’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকান বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাসে ৪ আগস্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি দিন। আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম হয়েছিল। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। শিশুদের কল্পনা ও সৃজনশীলতায় ফুটে ওঠা চিত্রকর্ম প্রমাণ করে, জুলাইয়ের চেতনা তাদের মনেও স্থান করে নিয়েছে। উপাচার্য আরও বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাগুলো কখনো ভুলে গেলে চলবে না। সেই ভয়াবহ সময়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্র, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং নিরাপদ রাষ্ট্রের স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ স্বাধীনভাবে কথা বলার যে সুযোগ, তা তাঁদের আত্মত্যাগেরই ফল। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন বলেন, এবারের আয়োজনটি ব্যতিক্রমধর্মী। ছোট্ট শিক্ষার্থীরা চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি গ্রাফিতিও অঙ্কন করছে। তারা রঙতুলির মাধ্যমে নিজেদের কল্পনা, অনুভূতি ও দেশপ্রেম প্রকাশ করছে। এ ধরনের সৃজনশীল চর্চা শিশুদের মধ্যে মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক চেতনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা ইতিহাসের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে।

আয়োজকরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণদের শিল্পকর্মকে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাভিত্তিক নানা ধরনের চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ছাত্রছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, জাদুঘরের পরিচালক, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও পরিচালক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমমতা’র বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন
পরবর্তী নিবন্ধবাঁশখালীতে শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক আটক