টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ খারাপ মন্তব্য করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আমরা গত চার–পাঁচদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছি। আগামী দুদিন পাঁচ জেলায় যাব। সেখানে ক্ষয়ক্ষতি এবং নতুন করে কারো সহায়তা প্রয়োজন আছে কি না তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন যেভাবে চাচ্ছে আমরা সেভাবেই সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রস্তত আছি, যা লাগবে তা দেব। এখানকার অবস্থা আসলে ভয়াবহভাবে খারাপ। আমরা জানি পরিস্থিতি কতটা খারাপ। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে এসেছি।
ত্রাণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে এম ইকবাল হোসেইন বলেন, কীভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে সেটাও দেখতে এসেছি। যদি মনে করি কোনো অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন, এখান থেকেই তা নিশ্চিত করব।
তিনি বলেন, বন্যাদুর্গতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে পুনর্বাসন পরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হবে।
পাহাড় ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি খাস জমি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবহার করা যায় কি না তা বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বেই।
বন্যা–পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রয়েছে। সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য রোগব্যাধি প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে। কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিশু খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী শিশু খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় পানি পরিশোধন যন্ত্র ও বোতলজাত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃক্সখলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় বন্যাকবলিত জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী : খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সরকার সব সময় রয়েছে। দুর্গতদের জন্য যা যা করণীয়, সরকার তার সবই করবে।
গতকাল বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গঞ্জপাড়া এলাকায় বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি বন্যা কবলিত মাইসছড়ি বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছারসহ জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।










