চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর কর্মকৃতি যেমন স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত, তেমনি স্বকীয়তায় উজ্জ্বল

‘চট্টগ্রামের প্রবন্ধ-সাহিত্যের ধারা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা

| রবিবার , ১৯ জুলাই, ২০২৬ at ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লেখক পরিষদের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রামের প্রবন্ধসাহিত্যের ধারা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে চট্টগ্রাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসেও তাৎপর্যময় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি অর্থনীতিধর্মভাষাসাহিত্যসর্বক্ষেত্রে এখানকার জনগোষ্ঠীর কর্মকৃতি যেমন স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত, তেমনি স্বকীয়তায় উজ্জ্বল।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. ওবায়দুল করিমের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক শাকিল আহমদ। আলোচক ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ ছিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী, প্রফেসর মুজিব রাহমান, অধ্যাপক মৃণালিনী চক্রবর্তী, . আজাদ বুলবুল ও অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্তী। ড. শামসুদ্দীন শিশিরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন, পরিষদের নির্বাহী সম্পাদক রাশেদ রউফ, ধন্যবাদ বক্তব্য দেন পরিচালক নাসের রহমান। এছাড়াও ছিলেন, পরিষদের পরিচালক প্রাবন্ধিক মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, . উজ্জ্বল কুমার দেব, জসিম উদ্দিন খান, নিজামুল ইসলাম সরফী, রিটন কুমার বড়ুয়া, বিচিত্রা সেন, মারজিয়া খানম সিদ্দিকা, ডা. প্রণব কুুমার চৌধুরী, রূপক কুমার রক্ষিত, সাইফুদ্দিন আহমদ সাকী, রোকেয়া হক, ইসমাইল জসীম প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক শাকিল আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের যেমন ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে ঠিক তেমনভাবে বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। আর সাহিত্যের অন্য শাখার মতো প্রবন্ধের ক্ষেত্রেও চট্টগ্রামের অবদান অকিঞ্চিৎকর নয়। ঊনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে শুরু করে অদ্যাবধি চট্টগ্রামের লেখকগণ বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে এক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। মূলত ঊনিশ শতকে বাঙালির জীবনে যে নবজাগরণ ঘটেছিল, তার প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছিল এই চট্টগ্রামও। তিনি বলেন, ঊনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত চট্টগ্রামের অনেক মনীষী সাহিত্যসাধনা করেছেন ইংরেজি, ফারসি ও উর্দু ভাষায়। অবশ্য পরবর্তীতে এই ধারা থেকে মুক্ত হয়ে মাতৃভাষার কাছে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, বিশ শতকের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দশক থেকে চট্টগ্রামের প্রবন্ধসাহিত্য আরও প্রসার লাভ করতে থাকে। প্রবন্ধকারের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সমসাময়িককালে চট্টগ্রামের অনেক গবেষকের অভিসন্দর্ভ পাশ্চাত্যের বিদ্বৎসমাজে সমাদৃত হয়। এবং একই সময়ে চট্টগ্রামের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি অংশ সাহিত্যসাময়িকী ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নানা বিষয়ে প্রবন্ধাদি লিখতে শুরু করেন। তবে লক্ষণীয় যে, এই তিন দশকে অসহযোগ আন্দোলন, যুববিদ্রোহ ও অস্ত্রাগার দখলের মতো বিশেষ বিশেষ ঘটনা ঘটলেও আমাদের প্রাবন্ধিকরা তাঁদের লেখনিতে সেসব ঘটনা খুব একটা ধারণ করেননি। এর কারণ সম্ভবত তৎকালীন শাসকদলের নিপীড়ননির্যাতনের ভয়। মূলত এই তিন দশকে চট্টগ্রামে প্রবন্ধের বিষয়আশয় ছিল সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিজ্ঞান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফেইমের ২৮ বছর পূর্তিতে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
পরবর্তী নিবন্ধচুয়েটে শামসেন নাহার খান হলে স্মার্ট হল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারের উদ্বোধন