চট্টগ্রামে ভাড়াটিয়া খুনিদের নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করুন

যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত শেষে এমপি গিয়াস কাদের

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ২১ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের আট দিন অতিবাহিত হলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে চিহ্নিত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী চক্র জড়িত, যাদের অর্থায়ন ও পরিচালনা করা হচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে। গতকাল শনিবার সকালে রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীতে নিহত যুবদল নেতা মাসুদের কবর জিয়ারত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন যুবদল নেতা মাসুদ। একটি সিএনজি টেক্সিতে করে আসা সশস্ত্র যুবক গাড়ি থেকে নেমে প্রকাশ্য দিবালোকে মাসুদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। নিহত মাসুদের বাসভবনে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, মাসুদ আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মী ছিল। তাকে যেভাবে নৃশংসভাবে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের অপরাধচিত্র তুলে ধরে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, এই ফ্যাসিবাদী ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের আনাচেকানাচে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা শুধু রাঙ্গুনিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই জড়িত নয়, রাউজান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক খুনের ঘটনার পেছনেও এই একই চক্র কাজ করছে। এরা মূলত টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যেখানেসেখানে খুনখারাবি করে বেড়াচ্ছে। তদন্তের পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সুতা কোথা থেকে নাড়ানো হচ্ছে, তা সরকারের গভীর তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এদের মূল চালিকাশক্তি ও অর্থায়ন আসছে সীমান্তের ওপার থেকে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনও এই বিষয়ে বহুলাংশে ওয়াকিবহাল বলে আমার ধারণা।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের আট দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে না পারায় নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, হত্যাকাণ্ডটি পেশাদার খুনিদের দ্বারা সংঘটিত হলেও স্থানীয় বেতাগী এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ ছাড়া এই ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। তারা অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রূপকারদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এই সংসদ সদস্য পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, একটি মূল্যবান প্রাণ ঝরে গেছে, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে চট্টগ্রাম, বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং মহানগরে আর কোনো জাতীয়তাবাদী সৈনিককে যেন এভাবে অপমৃত্যুর শিকার হতে না হয়, প্রশাসনকে সেই সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই খুনখারাবির রাজনীতির এখানেই ইতি টানতে হবে। মাসুদ হত্যাকাণ্ডে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে আট জনের নাম উল্লেখ করে ১১ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রাউজান থানায় হত্যা মামলা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পুক্সখানুপুক্সখভাবে বিশ্লেষণ করে খুনিদের স্পষ্ট ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ, ডিবি এবং র‌্যাবের একাধিক বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং তাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅফিস বাঁশখালীতে, বসেন চট্টগ্রামে
পরবর্তী নিবন্ধহামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু