চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সামশুন নাহার খানম নামে ৫০ বছর বয়সি এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নগরীর আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকার ওই নারী নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে গতকাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। এদের মধ্যে ৭ জনই নারী। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮৭ জন রোগী সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে গত আগস্টে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২০২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। জুলাই মাসে আক্রান্ত হন ৫৩৬ জন এবং মৃত্যু হয় দুইজনের। জুনে আক্রান্ত ১২২ জন, মে মাসে ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন ও মৃত্যু হয় একজনের। জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৮ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০৩ পুরুষ, ৭৯১ জন মহিলা এবং ৫৮৯ জন শিশু। এদিকে চলতি মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪৭ জন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৭ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৩২ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন, সিএমএইচ হাসপাতালে ২ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ১০ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১০ জন।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, আক্রান্তের হার বেশি এবং রোগী শনাক্তও হচ্ছে বেশি। এখনো প্রায় প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রবণতা থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৭ জন। মারা যান ১০৭ জন।












