চট্টগ্রাম–২ ও ৪ আসনের নির্বাচনে প্রার্থীদের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা মামলার শুনানি ২৮ এপ্রিল। এরপর আসন দুটির ভোটের ফলাফল প্রকাশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানান। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ ইতোমধ্যে বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য চট্টগ্রাম–২ এবং চট্টগ্রাম–৪ এই দুটি আসনের ফলাফল আমরা এখনও বলিনি। মাননীয় আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবেন আমরা সেভাবে এই দুইটা আসনের ফলাফল ঘোষণা করব। খবর বাংলানিউজের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আদালতে যান।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সেই লিভ মঞ্জুর করে জানান, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং তার প্রাপ্ত ভোট বৈধ থাকবে, তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। ভোটের হিসাবে স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হলেও আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেন যে, তিনি নির্বাচন করতে পারবেন, তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বিজয়ের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না। আদালতের এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই ইসি ওই দুই আসনের ভোটগ্রহণ করলেও ভোটের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে ১২ ফেব্রুয়ারি রাতেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়।














