জেন্ডার–সংবেদনশীল পুলিশি ব্যবস্থা ও সহায়তা সেবা আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) দেশব্যাপী ধারাবাহিক আলোচনা সভা ও কর্মশালার সূচনা করেছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সের মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাবে ‘বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪–২০২৭ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৭০ জন কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করে বলেন, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ পেশাগত অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করে, তবে প্রকৃত ক্ষমতায়ন আসে এমন একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে, যেখানে নারী–পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সমতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে। কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের প্রতিনিধিরা সংগঠনের কৌশলগত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য, কর্ম–জীবনের ভারসাম্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন। একইসঙ্গে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা জেন্ডার–সংবেদনশীল পুলিশি কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। বিপিডব্লিউএনের সভাপতি ও পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) নাসিমা আক্তার বলেন, নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমানে নারী–পুরুষ নির্বিশেষে সকল পুলিশ সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সঞ্জয় সরকার। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের জেন্ডার সমতা ও নারী ক্ষমতায়নের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জেন্ডার–রেসপনসিভ পুলিশিং, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মঘণ্টা, বদলি এবং পদায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম বলেন, নারী পুলিশের অংশগ্রহণ, সক্ষমতা ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিপিডব্লিউএন যে কাজ করছে, এই কর্মশালা সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ১৭ হাজার ৯৮৮ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন। ইউএন উইমেন ও বিপিডব্লিউএন দীর্ঘদিন ধরে নারী পুলিশ সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সেবা জোরদারে যৌথভাবে কাজ করে আসছে।










