চট্টগ্রাম বন্দরে বহিরাগত উইন্সম্যান শিপ-ক্রেন অপারেটর নিয়োগ বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে বহিরাগত উইন্সম্যান শিপ-ক্রেন অপারেটর নিয়োগ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর উইন্সম্যান (শিপ-ক্রেন অপারেটর) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি। গত মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর পোর্ট মার্কেট এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উইন্সম্যান শিপ ক্রেন অপারেটরর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী বার্থ এন্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের আওতাধীন ফরেন শিপপগুলোতে ক্রেন অপারেট করে আসছে। বন্দর নগরীতে বৈধ কোন ট্রেড ইউনিয়ন না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর উইন্সম্যান শিপ ক্রেন অপারেটর কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। গত ২০১৮ সালে শিপ হ্যান্ডলিং বার্থ অপারেটর কোম্পানিগুলোতে ১৫৪ জন উইন্সম্যান শিপ ক্রেন অপারেটর নিয়োগ হয়েছিল, তখন বাথ এন্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে উইন্সম্যান সমিতির রেজিস্টার বালাম দেখে সমিতির আইডিভুক্ত সদস্যদেরকে নিযোগ দিয়েছে। ওই সমিতির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৯ জন এরমধ্যে ৫৮১ জন বর্তমানে শিপ হ্যান্ডেলিং কোম্পানিগুলোতে কর্মরত রয়েছে। বাকি সদস্য বেকার মানবতার জীবন যাপন করছে। ইতোমধ্যে বার্থ এন্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি ৭টি কোম্পানিতে সমিতির সদস্য নয় এমন বহিরাগত ৪৯ জন অপারেটরের নিযোগের জন্য তালিকা প্রদান করেছেন, যে সকল ক্রেন অপারেটরগন কর্মরত রয়েছেন মাসে ১৫ দিনের চেয়ে কম ডিউটি হচ্ছে, এর মধ্যে ৭জন হারে অপারেটর নিয়োগ হলে সকল অপারেটরগণ না খেয়ে মরবে। তাই এই মুহূর্তে নিয়োগ বন্ধ রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি সম্ভব হয় ২৪ ঘন্টায় প্রতি ক্রেনে রানিং ২জন অপারেটরের সাথে একজন করে বৃদ্ধি রিলিভার বুকিং করিলে প্রত্যেকটি শিপ ২০ পার্সেন্ট সময় দ্রুত পণ্য খালাস হবে। এতে বাংলাদেশের বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বে বন্দরের সুনাম দ্রুত বৃদ্ধি হবে। কর্মরত অপারেটর নামাজ আদায় করতে পারবে শারীরিকভাবে সুস্থতা লাভ করবে এক্সিডেন্ট দুর্ঘটনার পরিমাণ কমবে তাই রিলিভার বুকিং প্রদানের অনুরোধ করছি, তা না হলে বন্দর সচলের লক্ষ্যে যে কোম্পানিগুলোতে অপারেটরের কম, ওই কোম্পানিগুলোতে একজন করে সমিতির আইডিভুক্ত সদস্য নিযোগ করুন। অন্যথায় চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি হলে উইন্সম্যান শিপ ক্রেন অপারেটর প্রতিনিধিগণ দায়ি থাকবে না। গত ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু চাঁদাবাজের শোষণ নির্যাতনে বন্দর নগরীর জামাত-বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক কর্মচারীগণ অতিষ্ট ছিল। আওয়ামী নামধারী চাঁদাবাজের নির্যাতনে সমিতির নির্বাচিত পরিষদের ১২জন নেতার মধ্যে ১০ জন এক বছর পরিষদে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কর্মরত অপারেটরগণ চাকরি হারানোর ভয়ে সমিতির কার্যালয়ে আসেনি। তখন বন্দর নগরীতে আওয়ামী নামধারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমি বন্দরনগরী ৮০ শতাংশ বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শ্রমিক কর্মচারীদের মুক্তির লক্ষ্যে আমার নোয়াখালী সুবর্ণচর থেকে ৪২ জন মানুষ শহরে এনে তাদের থাকা-খাওয়া বহন করে আমার সাথে সহকর্মী হিসাবে রেখে আওয়ামী নামধারী ধান্দাবাজদের সাথে যুদ্ধ করেছি, আল্লাহর অশেষ রহমতে বন্দর নগরী শ্রমিক কর্মচারীদেরকে নির্যাতন থেকে যতটুকু সম্ভব রক্ষার চেষ্টা করেছি এবং ওই সমিতির কর্মরত ৫৮১ জন অপারেটরের কর্মে যোগদানের তারিখ ১৫ মে ২০১৭ থেকে গ্রাচুইটি ২৮ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ২৫২ টাকা বন্দর কর্তৃপক্ষ হতে অনুমোদন করিয়েছি, কর্মরত অপারেটরদের ওয়ারিশ নিশ্চিত করেছি, এতে আমি ও আমার সহকর্মীদের আনুমানিক ৪ কোটি টাকা শ্রম অর্থ ব্যয় হয়েছে। আমার মা-বাবার অর্থ সম্পদ বিক্রি করেছি বর্তমান ৯৪ লক্ষ টাকা ঋণ এর দায়ে আমিও আমার সহকর্মীগণ ফেরারি মানবতার জীবনযাপন করছি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের আওতাধীন কিছু ক্রেন অপারেটর নিযোগ হবে পূর্বে যারা আওয়ামী নামে বন্দরের শ্রমিকদেরকে শোষণ করেছে ওই লোকগুলি বর্তমানে বিএনপি’র নাম বিক্রি করে আমার সমিতির বৈধ ক্রেন অপারেটর সদস্য রেখে বহিরাগত অপারেটর নিয়োগের পাঁয়তারা করছে। ওই সকল চাঁদাবাজ ব্যক্তিদের কে সরজমিনের তদন্ত করে আইনি শাস্তির দাবি কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির প্রচার সম্পাদক ইয়াসিন, সিরাজুর ইসলাম, রাশেদসহ প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমিয়ানমারে ভোট ঘিরে সেনাবাহিনীর হাতে ৭০০ নাগরিকের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধমসজিদে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমামের মরদেহ উদ্ধার