মিয়ানমারে ভোট ঘিরে সেনাবাহিনীর হাতে ৭০০ নাগরিকের মৃত্যু

ছয় মাসের তথ্য নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন

| বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমারে নির্বাচন ঘিরে ছয় মাসে সাত শতাধিক বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য সামরিক বাহিনীর দায় পেয়েছে জাতিসংঘ। গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে জাতিসংঘের একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে অন্তত ৭০২ জনের নিহত হওয়ার নিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু। বিবিসি লিখেছে, পাঁচ বছর আগে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা নেওয়া সামরিক বাহিনী নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পরের ছয় মাসের চিত্র এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। খবর বিডিনিউজের।

প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ রেখে অনুষ্ঠিত ওই প্রহসনের নির্বাচন ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমায় লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিবিসি লিখেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করলে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। এ যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটির একটি বড় অংশ এখনও সশস্ত্র বিরোধী দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে ধ্বংসযজ্ঞ ও দুর্ভোগের একক বৃহত্তম কারণ হল সরকারি বাহিনীর বিমান হামলা। সামরিক বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ সৃষ্টি করায় সাগাইং অঞ্চল বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হয়ে উঠেছে। সেখানে ৬০ জন নারী, ৩০ জন শিশুসহ ১৯১ জনের প্রাণ গেছে। সাগাইংয়ের চাউংইউতে গত অক্টোবরে একটি স্কুলের সামনে জড়ো হওয়া বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলায় চার শিশুসহ ২৩ জন নিহত হন এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। হামলার সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা মোমবাতি প্রজ্বালন করে বৌদ্ধ উপবাসের ইতি উদযাপন করছিলেন। পাশাপাশি তারা রাজবন্দিদের মুক্তি, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরোধিতা এবং সামরিক নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানাচ্ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে সাগাইংএর তাবায়িন অঞ্চলে ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য মানুষ যখন একটি চায়ের দোকানে জড়ো হয়েছিল, তখন একটি সামরিক বিমান সেখানে বোমা হামলা চালায়। তাতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর নির্যাতনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যারা একদিকে হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও যৌন সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছে, অন্যদিকে আরাকান আর্মিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএবার দলীয় প্রতীক হারানোর ঝুঁকিতে মমতার তৃণমূল
পরবর্তী নিবন্ধমসজিদে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমামের মরদেহ উদ্ধার