চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক শিশুসহ দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে মারা যান। গুরুতর আহত হয়েছেন চালকসহ আরও দুইজন। তবে যাত্রীবাহী বাসের কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় কারটি দুমড়ে–মুচড়ে যায়। এর ভেতরে থাকা এক শিশুসহ চারজন গুরুতর আহত হন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় শিশু ও বয়স্ক এক নারী সন্ধ্যার দিকে মারা যান। আহত অপর দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে মহাসড়কের বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার অদূরে বরইতলীর আমতলী নামক স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলো– চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার রমনা আবাসিক এলাকার (স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল) সুমন মিয়ার শিশু কন্যা মাইশা আক্তার (১০) ও চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার গাজীনগর গ্রামের আমিনুল হকের স্ত্রী ইসমত আরা (৫৫)। আহত দুইজন হলো– চট্টগ্রামের হালিশহরের কবির কোম্পানির বাড়ি এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে কার চালক আশিকুর রহমান (২৭) ও চাঁদপুর জেলার হাইমচরের গাজীনগরের আমিনুল হকের ছেলে সম্রাট (৩০)। হতাহতদের বাড়ি চাঁদপুর ও বরিশালে হলেও তারা সপরিবারে চট্টগ্রাম নগরে ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট জাকিবুল ইসলাম ফরহাদ জানান– কক্সবাজারগামী দ্রুত গতির স্বাধীন ট্রাভেলসের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেট কারটির। কারের ভেতর চালকসহ ছয়জন যাত্রী ছিলেন। সেখানে চালক, ১০ বছরের শিশুসহ তিন নারী, দুইজন পুরুষ ছিলেন। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে যাত্রীবাহী বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একইসাথে এই ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে।












