নিশিরাতে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই ল্যাম্পপোস্টটা অন্ধকারের বুক চিরে তার ক্ষীণ আলো ছড়িয়ে দেয়। ঠিক যেন আমাদের সুখ দুঃখে লেখা জীবন্ত এক এপিটাফ। গভীর রাতের ট্রেনের হুইসেল দূর থেকে কাঁপন তোলে। মনে হয়, খুব চেনা কেউ যেন ডাকছে চলো, ফিরে যাই সেই প্রণয়ের সোনারঙ বিকেলে। হুইসেলের সেই দীর্ঘ শব্দে জমে থাকা নিঃসঙ্গতার বরফ গলে যায়, আর হিমঠান্ডা অনুভবে ডুকরে ওঠে দলাপাকানো কান্না। বর্ষার রাতে ঝুম বৃষ্টির অনবরত হাহাকারে আকাশ যেন নিজেই চোখ ভেজায়। জানালার কাঁচে ঠেস দিয়ে আমি দেখি নিজেরই স্রোতসিন্ধু মুখ। বৃষ্টির ফোঁটা আর চোখের জল একাকার হয়ে মিশে যায় অতল নীরবতায়। আবার কখনো হিমেল বাতাস ছুঁয়ে যায় মন, শ্বেতপদ্মের মতো স্বচ্ছ, নির্মল প্রশান্তি হয়ে। এভাবেই জীবন এগিয়ে চলে। কখনো ল্যাম্পপোস্টের ক্ষীণ আলো, কখনো ট্রেনের দূর হুইসেল, কখনো বৃষ্টির হুহু কান্না, আবার কখনো শ্বেতপদ্মের নির্মল প্রশান্তি। কেউ আলো হয়ে আসে, কেউ হারিয়ে যায় অপ্রাপ্তির কষ্টে, আর কেউ শুধু অনুভূতি হয়ে থেকে যায় মননের গহনতম গভীরে।












