আকাশের বুক চিরে ছুটে চলা বিমানের দুরন্ত গতি তাকে মুগ্ধ করত। সেই গতিকে জয় করতেই স্বপ্ন বোনেন মেঘের রাজ্যে ডানা মেলার। অতঃপর পাইলট হওয়ার অদম্য ইচ্ছায় স্কলারশিপসহ ভর্তি হন পাকিস্তান এয়ারফোর্স ক্যাডেট কলেজে। কিন্তু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিমানের ডানায় চড়ে মেঘের গতিকে ছোঁয়া হয়নি।
এরপরও গতির সাথে তার মিতালি ফুরিয়ে যায়নি। এবার আকাশের স্বপ্ন ডানা মেলল পিচঢালা ট্র্যাকে; বিমানের ককপিট বদলে গেল রেসিং কারের স্টিয়ারিংয়ে। কারণ রানওয়ের বিমান হোক কিংবা ট্র্যাকের চাকা; লক্ষ্য তো সেই একটাই, সর্বোচ্চ গতি অর্জন।
ক্যাডেট কলেজের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় গতির সেই নেশা আরো গভীর হয়। এ সময় রেসিং ট্র্যাকের প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি ত্বরণ যেন তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শেখায়। পড়াশোনা শেষে মাতৃভূমিতে ফিরে দেখলেন এখানে রেসিংয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। কিন্তু দেশের অসংখ্য তরুণের চোখে দেখলেন গতির সেই চিরন্তন তৃষ্ণা, যা তাড়া করে তাকেও। তরুণদের সুপ্ত ব্যাকুলতা নিজের ভেতরের রেসিং প্রেমকে আরো উসকে দেয়। তখনই সিদ্ধান্ত নেন তরুণদের জন্য পথ তৈরি করবেন। ফলাফল নিজেই বানিয়ে ফেললেন আস্ত একটা রেসিং কার, যেটা দেশের প্রথম এনভায়রনমেন্ট–ফ্রেন্ডলি ইলেকট্রিক গো–কার্ট। সীমাবদ্ধতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এ দেশের বুকে গতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সেই পথস্রষ্টার নাম মো. মোক্তাদীর সাজিদ।
চট্টগ্রামের সন্তান সাজিদ কেবল রেসিং কার তৈরি করেই স্বপ্নপূরণের আনন্দে ভাসতে রাজি নন। তার স্বপ্নগুলো আরো ব্যাপকভাবে ডানা মেলছে। এখন তার স্বপ্ন দেশে রেসিং কার সেক্টর নিয়ে এমন একটি ফ্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যার মাধ্যমে রেসাররা লাল–সবুজের পতাকা নিয়ে যোগ দেবেন আন্তর্জাতিক রেইস ট্র্যাকে, যারা বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করবেন বাংলাদেশের নাম।
মোক্তাদীর সাজিদ আজাদীকে বলেন, বাংলাদেশের ভালো ভালো ইউনিভার্সিটি থেকে যেসব অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার পাশ করে বের হয়, ইউনিভার্সিটি লেভেলে তাদের প্রজেক্ট থাকে একটা রেসিং কার বানানো। তারা রেসিং কার বানায়, ইন্টারন্যাশনালি বিভিন্ন কম্পিটিশনে গিয়ে পুরস্কারও পায়। কিন্তু যখন দেশে ফিরে সেটার ভবিষ্যৎ নেই। হয়তো সেটা তার ফাইনাল ইয়ার প্রজেক্ট হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে। পাস করে বের হওয়া বিশ্বের বিভিন্ন ভালো ভালো কোম্পানিতে জয়েন করে ওরা চলে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের এই অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিটা কোনোভাবেই গ্রো করছে না। এই জায়গায় আমরা একটা প্ল্যাটফর্ম করতে পারি, যেখানে রেসাররা থাকবে, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়াররা থাকবে। বাইক নিয়ে যদি এই মোটর স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিটাকে গ্রো করা যায়, তখন সেটা অনেক বড় একটা পাওয়া হবে আমাদের জন্য। সে স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি।
শুরুটা যেভাবে : রেসিং কার (গো–কার্ট) তৈরির শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে মোক্তাদীর সাজিদ আজাদীকে বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরে, বিশেষ করে চট্টগ্রামে এসে দেখলাম, এখানে রেসিং করার কোনো ফ্ল্যাটফর্ম বা রেসিংয়ের ফ্যাসিলিটি নেই। অনেক ছোট ভাইকে দেখতাম যারা রেসিংকে প্রফেশন (পেশা) হিসেবে নিতে চায়। আমাকে যারা চিনে তাদের অনেকেই বলত, তারা রেসিংকে ক্যরিয়ার হিসেব নিতে চায়, কিন্তু মালয়েশিয়া বা অন্য দেশে গিয়ে রেসিং করার সামর্থ্য তাদের নেই। তখন আমার মাথায় প্রশ্ন এলো রেসিংয়ের জন্য একটা ফ্ল্যাটফর্ম কেন করছি না?
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে স্পিডের (গতি) প্রতি আমার নেশা ছিল। পাকিস্তান এয়ারফোর্স ক্যাডেট কলেজে পড়ালেখা করেছি। পাইলট হওয়ার খুব শখ ছিল। সেটা হয়ে উঠেনি। এরপর মালয়েশিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ালেখা করি। তখন রেসিংটা আমার সাথে ছিল। রেসিং হয়তো বাই–প্রফেশন হিসেবে নিতে পারিনি বা আমার জন্য ওই সুযোগ হয়নি। বাট শখের বশে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমি রেইস করেছি এবং আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম যে আমার ওই ফ্যাসিলিটিটা ছিল, যেহেতু মালয়েশিয়ায় ছিলাম। আমি মনে করি বাংলাদেশেও এ রকম ফ্যাসিলিটি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, কী করা যায় চিন্তা করতে করতে দেখলাম, রেসিং কারটা আগে নিজেদের বানাতে হবে। কারণ চীন বা অন্য দেশ থেকে আনলে সেখানে বড় ইস্যু হয়ে উঠবে মেইনটেনেন্স। রেসার শুধু একা না, রেসিং গাড়ির পুরো একটা টিম থাকে। মেইনটেনেন্স থেকে শুরু করে সবকিছুর জন্য একটা প্রপার টিম লাগে। তখন ভাবলাম, যদি বাইরের দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাই, তখন পুরা ইকোসিস্টেম বা নিয়ন্ত্রণটা আমার হাতে থাকল না। এটা চিন্তা করেই আমার গাড়ি বানানো শুরু।
সাজিদ জানান, তাহেরি মিশরাক নামে একজন ব্যবসায়িক পার্টনার থাকেন জার্মানিতে। তিনিসহ জার্মানির নাম করা একটি রেসিং কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের গাইডলাইন ও কনসালটেন্সিতে রেসিং কার বানানো শুরু করি। পুরো গাড়ি বানাতে সময় লেগেছে প্রায় আড়াই বছর। এত সময় লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটা দেখলে খুবই সহজ মনে হয়। নিজের জন্য হলে দুই–তিন মাসে বানিয়ে ফেলা যেত। কিন্তু গাড়িটা চালাবে ইয়ং রেসাররা। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিই। সেজন্য চেসিস মেজারমেন্ট থেকে শুরু করে সবকিছু যতটুকু সম্ভব প্রপার সেফটি সিকিউরিটি মেজারমেন্ট দিয়ে করা যায় আমরা সেভাবেই করেছি।
তিনি বলেন, নির্মাণের সময়ও অনেক চ্যালেঞ্জ এসেছে। এ গাড়ির পারফরমেন্স নিশ্চিত করার জন্য যে মেটেরিয়াল বা পার্টস দরকার সেগুলো বাংলাদেশের রেডিমেড মেটেরিয়ালস থেকে পাচ্ছিলাম না। পরে নিজেদের জন্য মেজারমেন্ট করে নিজেরা সবকিছু বানাতে থাকি। এমনকি নাট ও ফাইবার গ্লাসের বডি থেকে শুরু করে সবকিছু। তবে চাকা বাইরে থেকে আনি, যেহেতু চাকাগুলো বাংলাদেশে পাওয়া যায় না।
সাজিদ বলেন, আমি ইলেকট্রিক গো–কার্ট তৈরি করেছি। এখন বড় বড় যারা রেসিং গাড়ির কোম্পানি আছে তারা ইলেকট্রিকের দিকে এগুচ্ছে। তাই বাংলাদেশে এখন থেকে ইলেকট্রিক গো–কার্টের দিকে এগুচ্ছি। ইলেকট্রিকের সাথে সাথে পুরা ইকোসিস্টেমকে আমি রিনিউয়েবল এনার্জি দিয়ে চালানোর চেষ্টা করছি। সো, আমার যে ফ্যাক্টরিটা আছে বা যেখানে গাড়িগুলো চার্জ হয় বা সেটা সম্পূর্ণ সোলারের মাধ্যমেই চালাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২২ সালে এটার কাজ শুরু করি। বানানোর আগে প্ল্যান, ডিজাইন ছিল। সব মিলিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে। বর্তমানে ছয়–সাতটা গাড়ি আছে এবং ইনভেন্টরি রেডি আছে ১০ থেকে ১৫টা বানানোর জন্য।
সাজিদ জানান, ট্র্যাকে যেসব গো–কার্ট চলে সেগুলো ১০০–২০০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু বাংলাদেশে অত স্পিডে চালানোর মতো ট্র্যাক নেই। সেজন্য দেশে যতটুকু জায়গা আছে বা এখানকার রেসাররা যতটা অ্যাফোর্ড করতে পারেন ততটুকু স্পিডে সীমাবদ্ধ রাখছেন নিজের তৈরি গো–কার্টের স্পিড। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতেও স্পিড সীমিত রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তৈরি করা করা গো–কার্টে ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার স্পিড রয়েছে।
দরকার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা : বাংলাদেশে রেসিং এখনো জনপ্রিয় নয়। সেই জায়গায় সেক্টরটাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব কি না সে প্রশ্ন থাকে। তবে সাজিদ মনে করেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সম্ভব। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা দরকার। ক্রিকেট বা ফুটবলকে যেভাবে ন্যাশনাল গেম হিসেবে গণ্য করা হয় রেসিংটাকেও ন্যাশনাল গেম হিসেবে যেন কনসিডার করা হয়। দেশে অনেক মেধাবী তরুণ আছে যারা এটাকে পেশা হিসেবে নিতে চায়। আবার গাড়ি থাকলেই রেসার হতে পারবে না। সেজন্য প্রয়োজন ট্র্যাক, এডুকেশন মডেল ও ট্রেইনার; যার সবগুলোকেই একটা ইকোসিস্টেমে আনতে হবে।
সাজিদ বলেন, নানা জায়গায় সরকারি অনেক ভূমি খালি পড়ে আছে। সেখান থেকে রেসিং ট্র্যাক করার জন্য সরকার জায়গা দিতে পারে। যেখানে বাচ্চা এবং তরুণরা শিখতে পারবে। বাইরের অনেক ট্রেইনার আছেন যাদের আমরা এখানে নিয়ে আসতে পারব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনোভেটিভ আইডিয়াকে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি যদি আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করেন তাহলে অবশ্যই রেসিংটাকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব। বাংলাদেশের রেসারদেরকে ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে পাঠানো খুব একটা কঠিন কিছু না। বাইরে দেশগুলো যদি পারে আমরাও অবশ্য পারব।
সাজিদের ভাষ্য, রেসিংয়ের জন্য যে ট্র্যাক দরকার সেটা বাংলাদেশে ওভাবে ডেভেলপ করেনি। বর্তমানে ফ্যান্টাসি কিংডম ও ৩০০ ফিটে একটা আছে। সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হয়। ট্রেইনারের সাথে বা একদম প্রপার গাইডেন্সের সাথে যে ট্র্যাক সেই ট্র্যাকটা আসলে বাংলাদেশে এখন নেই। আমরা ও রকম একটা ট্র্যাক করতে চাই। অনেক অভিভাবক আসেন যারা জানতে চান রেসিংয়ে কীভাবে তাদের সন্তানদের এগিয়ে নেবেন। তারা বাচ্চাকে শেখাতে চান। যদি আমাদের একটা ট্র্যাক, একটা একাডেমি থাকে, তাহলে আমরা ডেফিনেটলি উনাদেরকে একোমোডেট করতে পারতাম।
বাণিজ্যের চেয়েও স্বপ্নটা বড় : সাজিদের রেসিং কার কিনতে আগ্রহ দেখান অনেকে। কিন্তু বাণিজ্যের চেয়েও তার কাছে রেসিংকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্নটা আগে। তাই বিক্রি করেন না। এ বিষয়ে সাজিদ বলেন, কমার্শিয়ালি কেউ নিয়ে কিছুক্ষণ চালাল। এটা তো তার সাময়িক বিনোদন হবে। সেটা চাই না। যদি মোটর স্পোর্টসকে এগিয়ে নিতে চাই তাহলে দরকার একটা টোটাল টিম নিয়ে কাজ করা। সেজন্য ট্র্যাক দরকার। কেউ নিয়ে গিয়ে রাস্তায় চালাবে, কিন্তু এটা তো রাস্তায় চালানোর জন্য বানানো হয়নি। রাস্তায় চালালে দুর্ঘটনা হতে পারে। ট্র্যাকে দুর্ঘটনা ঘটলেও সেফটি গার্ড থাকে। তাই অ্যাকসিডেন্ট হলেও চালকের ক্ষতি হয়নি। কাজেই অনুরোধ থাকলেও বিক্রি করি না। আমার ভুলে কারো ক্ষতি হোক সেটা চাই না। আমি চাই রেসিং এগিয়ে যাক।
সাজিদ বলেন, আমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। একটা স্টার্টআপের সাথেও জড়িত ছিলাম অনেক বছর। এখনো আছি আইটি সেক্টরে। ওখানে যে ইনকাম সেটা রেসিং কারে দিচ্ছি। এটা আসলে প্যাশন থেকে করা। নিজের এ স্বপ্ন পূরণের পথে আছে আরো দুই বন্ধু ইশরাক ও সরিফুদ্দিন।
পরিবারে সাপোর্ট ছিল সবসময় : পাইলট না হলেও আইটি খাতে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে সাজিদের। কিন্তু তার আগ্রহ রেসিং কার। এক্ষেত্রে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মন খারাপ হলেও সন্তানের পাশে ছিলেন সাজিদের মা রোটারিয়ান জাহেদা আকতার। সেটা স্বীকার করেছেন সাজিদ।
জাহেদা আকতার মিতা আজাদীকে বলেন, গত দুই বছর অনেক কষ্ট করেছে সাজিদ। শেষ পর্যন্ত একটা জায়গায় এসেছে। এখনো পুরোপুরি সফল বলব না, শুরুই বলব। এরপরও তাকে এ পর্যায়ে আনার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমি চাই তার অর্জনের মধ্য দিয়ে যেন বাংলাদেশের রেসিং ইন্ড্রাস্ট্রি হয়, রেসার তৈরি হয়।
তিনি বলেন, সাজিদ চাইলে মালয়েশিয়া থাকতে পারত। ওখানে তার সফটওয়্যার কোম্পানি আছে। ওখান থেকে দেশে চলে এসেছে। প্রথম প্রথম তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে মন খারাপ করতাম। কিন্তু কখনো নিরুৎসাহিত করিনি, ও যেটা করতে চায় স্বাধীনতা দিয়েছি।
তিনি বলেন, সাজিদ একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। নিজের সফটওয়্যার কোম্পানি পরিচালনা করলেও তার ধ্যান–ধারণা, চিন্তাচেতনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং নেশা ছিল অন্য জায়গায়। ছোটবেলা থেকেই তার চিন্তাভাবনাগুলো ছিল অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। নতুন কিছু সৃষ্টি করার আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের কথা বলত। বিশ্বাস–অবিশ্বাসের দোলায় দুলতাম। অনেক কষ্ট করে বিদেশে লেখাপড়া করানো ছেলেকে দিন–রাত ধুলো–ময়লা আর যন্ত্রপাতি নিয়ে পড়ে থাকতে দেখে মনে মনে বিরক্ত হলেও ওকে নিরুৎসাহিত করিনি কখনো। তারপর একদিন দেখলাম আমার ছেলেটা তার অসীম ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম, অসংখ্য চেষ্টা, ত্যাগ, কষ্ট এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তিল তিল করে একাই তৈরি করেছে বাংলাদেশের প্রথম এনভায়রনমেন্ট–ফ্রেন্ডলি ইলেকট্রিক গো–কার্ট।












