গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এ দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি একের পর এক আরও জোরালো করা হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হবে। তখন গ্রামের প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, এই দাবিগুলো কোনো দলীয় বা নির্বাচনি দাবি নয়; বরং দেশের প্রত্যেক নাগরিকের দাবি। জুলাই গণহত্যাসহ গত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, চাঁদাবাজি বন্ধ, অর্থপাচার রোধ এবং কৃষকের সার নিশ্চিত করার দাবিতে তারা মাঠে নেমেছেন।
এ সময় সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কার্ড বিতরণের প্রচার করা হলেও সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কৃষকের সার সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষ–বাণিজ্যের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, দুই দিন আগে চার দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফিরেছেন। কী জন্য গিয়েছিলেন, কী করে এসেছেন, জাতির সামনে তাকে এটা খোলাসা করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না। সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি তারা এখন ভোগ করছে। তাদের তো দিদি–দাদা ছিল, আপনাদের কে আছে? জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে পার পাবেন না।
বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আরেকবার লড়াই করতে হবে। আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আমাদের দরজায় টোকা দিচ্ছে। সাত দফা দাবির মূল দফা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে বাকি ছয় দফারও প্রয়োজন হতো না। কোনো চাঁদাবাজ, দখলদার, দুর্নীতিবাজ কিংবা মাদক সম্রাট মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না।
শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। কথা দিয়ে কথা ভঙ্গ করেছে। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। জাতির আকাঙ্ক্ষাকে, গণরায়কে উপহাস করেছে। তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, ভালোয় ভালোয় এখান থেকে ফিরে আসুন, গণরায় বাস্তবায়ন করুন। না হলে আপনাদেরকে উচ্চ মূল্য দিতে হবে। সেদিকেই সম্ভবত বিএনপি এগোচ্ছে।











