চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত সিঙ্গাপুর থেকে আসা আমদানি পণ্যবাহী দুটি কন্টেনার জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে বার্থিংয়ে আনা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকালের জোয়ারে বন্দর চ্যানেল হয়ে জেসিবি জেটিতে নোঙর করে মায়েরস্ক চট্টগ্রাম ও এইচআর তুরাগ নামের জাহাজ দুটি। এর আগে বেলা ১১টা থেকে কর্ণফুলীর মোহনা থেকে নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) পর্যন্ত নৌপথে জোরদার করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা। দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজ দুটির প্রতিটিকে তিনটি করে টাগবোট দিয়ে পাহারা দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত টাগবোট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়।
এ সময় বন্দরের নির্ধারিত অন্যান্য জাহাজের বার্থিং আগেভাগে শেষ করা হয় এবং সাময়িকভাবে সাধারণ জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ভিটিএমএস) থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন নৌ বিভাগের কর্মকর্তারা।
বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানির জাহাজ মায়েরস্ক চট্টগ্রাম এবং দেশীয় এইচআর তুরাগ সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কন্টেনার বোঝাই আমদানি পণ্য নিয়ে গত শুক্রবার বহির্নোঙরে পৌঁছে। ওই সময় জাহাজ দুটি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর জাহাজ দুটি সেখানে আটকা পড়ে।
দুর্ঘটনার পর জাহাজ দুটি জেটিতে আনার জন্য বন্দরের পাইলটরা চেষ্টা করলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আনা সম্ভব হয়নি। দুদিন পর গতকাল বিশেষ ব্যবস্থায় জাহাজ দুটি জেটিতে আনা হলো।
চট্টগ্রাম বন্দরের উপ–সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম বলেন, দুটি জাহাজে বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য আটকা ছিল। দীর্ঘ সময় বহির্নোঙরে থাকায় আমদানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছিল। তাই অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থায় জাহাজ দুটি জেটিতে আনা হয়েছে।
জাহাজ পরিচালনাকারীরা জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ধীরগতিতে অর্থাৎ ৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল বেগে এবং প্রতি জাহাজে দুজন করে পাইলট দিয়ে জাহাজ দুটিকে বার্থিংয়ে আনা হয়েছে।
জানা গেছে, মায়েরস্ক চট্টগ্রাম জাহাজে ১ হাজার ৮৭৮টি এবং এইচআর তুরাগে প্রায় এক হাজার কন্টেনার রয়েছে। জাহাজ দুটি আমদানি পণ্য খালাস করলেও আপাতত রপ্তানি কন্টেনার বোঝাই করবে না। ঘটনা তদন্তে নৌ–বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজ দুটি ডকইয়ার্ডে নিয়ে মেরামত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সমুদ্রপথে চলাচলের অনুমতি পাওয়ার পর জাহাজ দুটি রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাত্রা করতে পারবে।














