কুতুবদিয়া সৈকতে পর্যটনের সম্ভাবনা

ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী | শনিবার , ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

নীল আকাশ, দিগন্তজোড়া সমুদ্র, বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা আর উপকূলজুড়ে সবুজের সমারোহ প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ দ্বীপে রয়েছে পর্যটনশিল্প বিকাশের অপার সম্ভাবনা। পরিকল্পিত উদ্যোগ, আধুনিক পর্যটনসেবা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে কুতুবদিয়ার বেলাভূমি হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।

কুতুবদিয়ার সমুদ্র সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ এর বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা ও শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ। ব্যস্ত নগরজীবন থেকে দূরে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে, সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করতে কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে অবকাশযাপন করতে এখানে ছুটে আসতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে বিকেলের সোনালি রোদ, সমুদ্রের ওপর সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য এবং উপকূলের স্নিগ্ধ বাতাস পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুতুবদিয়ার বেলাভূমিতে পর্যটকদের আনাগোনা, সারি সারি রঙিন ছাতা এবং বিশ্রামের জন্য স্থাপন করা শয্যা। সমুদ্রসৈকতের খোলা পরিবেশে দর্শনার্থীদের সময় কাটানোর এমন দৃশ্য স্থানীয় পর্যটন কার্যক্রমের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। পর্যটকদের জন্য বসার ব্যবস্থা, খাবারের দোকান ও অন্যান্য সেবার সমপ্রসারণ ঘটলে এ অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

বড়ঘোপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. কামাল বলেন, কুতুবদিয়া শুধু সমুদ্র সৈকতের জন্যই নয়, ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর, উপকূলীয় জীবনযাত্রা, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এবং সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যটকদের সামনে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারে। এছাড়া স্থানীয় মানুষের জীবন–জীবিকা, সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি উৎপাদন এবং উপকূলীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা যেতে পারে বিশেষ পর্যটন কার্যক্রম।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, কুতুবদিয়াকে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ। উন্নত যাতায়াতব্যবস্থা, নিরাপদ নৌ–যোগাযোগ, পরিচ্ছন্ন সৈকত, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বসার স্থান এবং মানসম্মত খাবারের দোকান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী, প্রাথমিক চিকিৎসা, সতর্কতামূলক নির্দেশনা ও জরুরি সেবার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এবং পর্যটকদের রাত্রিযাপনের উপযোগী আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শওকত আলম বলেন, স্থানীয়দের মতামত ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, খাবার, আবাসন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটতে পারে।

বড়ঘোপ সি–বিচের হোটেল ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন বলেন, পরিকল্পিত পর্যটনশিল্প কুতুবদিয়ার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্থানীয় পরিবহন, হোটেল–রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হস্তশিল্প ও সামুদ্রিক পণ্যের বাজার সমপ্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ক্ষেত্র গড়ে উঠতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধএবার নতুন রাস্তা করে বালু পরিবহন ও উত্তোলনের চেষ্টা