কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহি (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) ভোর রাত ১টা ৩২ মিনিটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মাহি চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এবং সেখানে উচ্চশিক্ষার্থে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট জনস এলাকার মেয়র অ্যাভিনিউ এবং নিউটাউন রোডের সংযোগস্থলের কাছে চারজন আরোহীসহ একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, গাড়িটি সড়কের পাশে থাকা বেলভেডিয়ার কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে গিয়ে পড়ে।
উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দুর্ভাগ্যবশত, গুরুতর আহত মাহিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত মো. ইস্তিনাব মাহি চট্টগ্রামের মো. মোহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। সে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। মাহি ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল (১৮২ ব্যাচ) থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তীতে কানাডায় যান এবং সেখানকার বিখ্যাত ‘মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অফ নিউফাউন্ডল্যান্ড’-এ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর ছিলেন।
তার এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, তার বিদ্যালয়ের সহপাঠী এবং কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এদিকে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাহির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।











